টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য নেয়া শুরু করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের পরিবারে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক।

২৪ আগষ্ট সোমবার জেলার বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তার বাসাবাড়ীতে পুলিশ তথ্য সংগ্রহের জন্য গিয়েছে। সঠিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কর্মকর্তারা জমা দেয়নি বলে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কেউ মুখ খোলতে নারাজ।

কক্সবাজার শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ’সোমবার বিকালে আমার এলাকায় গিয়ে একজন পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ সময় আমি অফিসে ছিলাম।’

কক্সবাজার শাখার আরেক কর্মকর্তা জানান, গত রোববার দুপুরে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ড, জন্মনিবন্ধন সনদ, নিয়োগপত্র, বর্তমানে কোন শাখায় কর্মরত এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে সোমবার সকাল ১০ টার মধ্যে কক্সবাজার সদর মডেল থান স্ব-শরীরে উপস্থিত হতে বলে।

এভাবে জেলার বিভিন্ন শাখার আরো অন্তত দশজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে পুলিশ তাদের বাসা বাড়ীতে যাওয়ার খবর স্থানীয় সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে এতে ব্যাংকের কোন শাখায় প্রভাব পড়েনি। সকল শাখার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জেলার বিভিন্ন শাখার খোঁজখবর নিয়েও তার সত্যতা মিলেছে।

এ দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার এক শাখা ব্যবস্থাপক জানান, খুরুশকুল, খরুলিয়া, পেকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ১১ কর্মকর্তার বাসাবাড়ীতে পুলিশ গিয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকে যোগদানের পর শিক্ষানবীসকাল শেষে চাকরী স্থায়ীকরণের পূর্বে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন’ জমা দিতে হয়। এরপরই চাকরী চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া হয়। সকলের প্রতিবেদন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জমা আছে।

তিনি আরো বলেন, সকালে ব্যাংকে ঢুকে কাজ শেষ করতে রাত আটটা বেজে যায়। এতে কারোর পক্ষে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। চাকরীবিধি অনুসারেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পথ রুদ্ধ।

তাছাড়া ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে খুবই কড়াকড়ি রয়েছে। সবমিলিয়ে ইসলামী ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। এরপরও সরকারী কোন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করার অধিকার রাখেন। এ বিষয়ে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল নাসের জানান, জেলার আট শাখায় আড়াইশতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। সকলের ইতিবৃত্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়া আছে।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের যথাযথ কর্তৃপক্ষ আমাদের কারোর কাগজপত্র তলব করলে তা জমা দেয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আছে। আমরাও সেভাবে জমা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র চায়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকের কাছে পুলিশ পরিচয়ে ফোন দেয়ার খবর আমাদের কাছে এসেছে।’

পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ সক্রান্তে কিছুই জানেন না বলে উত্তর দেন। ইসলামী ব্যাংকের ১৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসবির একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে এসব নথি সংগ্রহ করা হয়। এর পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ইসলামী ব্যাংকে ফোন করে সব কর্মীর নাম, ঠিকানাসহ বিস্তারিত বিবরণী চান। সে অনুযায়ী পরে বিশেষ শাখার পাঁচ-ছয়জন কর্মকর্তা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে বিবরণী সংগ্রহ করেন।

ব্যাংকটি ১৩ হাজারের বেশি কর্মীর নথিপত্র তুলে দেয় এসবি কর্মকর্তাদের হাতে। এসব নথিপত্রের অনুলিপি পরে পুলিশের সব থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মতামত