টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের আমির মার্কেট ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত , ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

Raozan-amir-market--2চট্টগ্রাম, ২৫ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: ঝুকিঁপূর্ণ হওয়ায় চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়ার প্রাচিন আমির মার্কেট ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে মালিক পক্ষ। এমন খবরে এখানকার ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের প্রাচীন এ মার্কেটটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০ দোকানের খুচরা ব্যবসায়ী।

মালিক কর্তৃপক্ষ বলছে ঝুর্কিঁপূর্ণ হওয়ায় মার্কেটটি ভেঙ্গে নতুন করে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ হওয়ার পর পুরনো ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত কয়েকমাস আগে থেকে এখানকার ব্যবসায়ীরা মার্কেট ভেঙ্গে ফেলা হবে এমন খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়েছেন। কারণ এখানকার অনেক ব্যবসায়ী বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ঋণ প্রদান সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঠিকিয়ে রেখেছেন।

পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীর একমাত্র উপার্যন মাধ্যম হচ্ছে এ মার্কেটের তাদের দোকানটি। হঠাত যদি মার্কেট ভেঙ্গে ফেলা হয় তাহলে ব্যবসায়ী চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তাদের দাবী আরো ১০ বছর সময় দেওয়া হোক। এসময়টাতে ব্যবসায়ীরা তাদের লেনদেন দেনা পাওনা গ্রাহক থেকে গুছিয়ে নিতে পারবেন।

এনিয়ে গত ২৪ আগস্ট সোমবার সকালে আমির মার্কেট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সাথে একটি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মার্কেটের মালিক শফিক আহমদ, আলহাজ্ব নুরুল হক, শরাফত উল্লাহ বাবুল, জসিম উদ্দিন আমির, মে. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব শাহ আলম সওদাগর, এটিএম শামসুদ্দিন, মো. হাশেম, দিলীপ কুমার বড়–য়া, নুরুল আলম সও, শাহ জালাল, এসকান্দর আলম সও. মীর আশেকুর রহমান, কামরুল ইসলাম বাবু, মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
বৈঠকে মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয় মার্কেটটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিল নোয়াপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খায়েজ আহমদ চেয়ারম্যান, হাজী রশিদ আহমদ, শফিক আহমদ ও আলহাজ্ব নুরুল হক।

তারা জানান, দীর্ঘ ৩৮ বছর আগে আমাদের মুরব্বীদের হাতে প্রতিষ্ঠা করা এই মার্কেটটি এখন ঝুঁিকপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোন সময় দুঘর্টনা ঘটতে পারে। তাই ঝুঁিক এড়াতে আমরা চাচ্ছি ব্যবসায়ীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও পুরাতন মার্কেটটি ভেঙ্গে নতুন করে মার্কেট নির্মাণ করার।

ব্যবসায়ীরা ১০ বছরের সময় চাইলেও আমরা এত সময় দিয়ে ঝুঁিক নিতে চাইনা। তবে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আমির মার্কেটের ফয়েজ ট্রেডার্সের মালিক ব্যবসায়ী এসকান্দর আলম বলেন, এ মার্কেটের আমার ৪ টি দোকান রয়েছে। দোকানের আয়ের উপর ভর করেই চলে আমার সংসার। কোন কারণে যদি মার্কেট ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে আমি পথে বসবো। এছাড়া আমার বিকল্প কোন আয়ের পথ নেই। মার্কেট ঝুকিঁপূর্ণ সর্ম্পকে তিনি বলেন, কমপক্ষে ১০ বছর সময় দেয়া হোক ব্যবসায়ীদের।

মৌসুমি স্টোরের মালিক এটিএম শাসমুদ্দিন, ফ্রেন্ডস ক্লথ স্টোরের মালিক দিলীপ বড়ুয়া বলেন এই মার্কেটে ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। অনেক গ্রাহকের কাছে বাকী টাকা আটকে আছে। এগুলো উঠিয়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়াও ব্যাংক বীমা থেকে ঋণগ্রস্থ আছি তাদেরও পাওনা শোধ করতে ৫/৬ বছর সময় প্রয়োজন। আমার মত এখানকার প্রায় ব্যবসায়ীর একই পরিস্থতি রয়েছে। আশা করছি মালিক পক্ষ এটা বিবেচনা করবে।

মার্কেটের মালিক পক্ষের মধ্যে শরাফত উল্লাহ বাবুল, জসিম উদ্দিন আমির ও নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা আগামী ২ বছরের মধ্যে এ মার্কেট ভেঙ্গে নতুন মার্কেট নির্মাণে যেতে চাই। কারণ মার্কেটে আমরা কোন ধরনের দুর্ঘটনার ঝুকিঁ নিতে চাইনা। ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক হয়েছে তারা সময় চেয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারা যদি আরো বেশি সময় চান তাহলে কোন দূর্ঘটনা ঘটে গেলে সেটার দায়ভার মালিক পক্ষ নেবে না।

মতামত