টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা রোহিঙ্গারা আনোয়ারায়!

চট্টগ্রাম, ২৪ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :: সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে না পারা শতাধিক রোহিঙ্গা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গা ঢাকা দিয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মালয়েশিয়ায় নেয়ার কথা বলে দালালরা তাদের আনোয়ারা পারকির চরে রেখে পালিয়ে যায়। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করলেও তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি গোয়েন্দারা।

তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গল এবং সাগরে অবৈধ অভিবাসীদের মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও থামছে না মানব পাচার। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা কমে আসলেও কমছে না রোহিঙ্গা পাচার। এখনও যাদের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের অজানা স্থান থেকে পাচার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গাদের আনাগোনা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান না চালানোয় তারা যখন যা ইচ্ছে তাই করছে। এর ফলে এসব এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলছে।

টেকনাফ উপজেলার ২নং ওয়ার্ড পুরান পল্টন পাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মায়মুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি মো. আবুল কাশেম (বুলু) বলেন, টেকনাফের অনেক মানুষ মুসলমান হিসাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও পরে তারা চুরি-ডাকাতি, খুনি, মাদক পাচার ও মানব পাচারসহ বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার নিয়ে পুলিশের গুলিতে চার জন মানবপাচারকারীর মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজার থেকে মানবপাচারকারীরা গা ঢাকা দিলেও রোহিঙ্গা পাচার থেমে নেই। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অজানা স্থান থেকে রোহিঙ্গা পাচার চলছে এখনও।

তিনি আরও বলেন, প্রতিরাতে টেকনাফের সর্বত্র নতুন নতুন রোহিঙ্গা আসছে। কয়েকদিন পর আবার তাদের দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন কলা-কৌশলে কারও সহায়তা নিয়ে তারা সাগর পথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সম্পর্কে জানতে চাইলে টেকনাফ বিজিবি-৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ বলেন, রোহিঙ্গারা টেকনাফ দিয়ে এখনও আসছে। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় রোহিঙ্গাদের যেখানে পাওয়া যায় তাদের পুনরায় সেই স্থান থেকে সঙ্গে সঙ্গে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতকিছুর পরও টেকনাফে নতুন নতুন রোহিঙ্গা আসার কথা স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। যাদের ধরতে বিজিবি পুনরায় অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের যেসব গোপন স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের পাচার করার কথা শোনা যাচ্ছে এ ব্যাপারে বিজিবি খোঁজ নিচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতের আঁধারে কক্সবাজার থেকে সাগর পথে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পারকির চরে এনে প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গাকে তুলে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যাদের বলা হয়েছিল এটাই মালয়েশিয়া। দিনের আলোতে এসব রোহিঙ্গা বুঝতে পারে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে পাচারকারীরা।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আনোয়ারায় তুলে দেওয়া রোহিঙ্গারা পাচারকারীদের প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছিল বলে অনেককে জানান। হাস্যকর এই কাহিনী স্থানীয় লোকজনের কাছে বললেও তারা ধরা পড়ার ভয়ে আনোয়ারার বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। যাদের খোঁজে বের করতে গোয়েন্দা সদস্যরা তৎপর হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, কৌশল পাল্টিয়ে মানবপাচারকারীরা কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সড়ক পথে বা রাতের আঁধারে সাগর পথে রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রাম নিয়ে আসছে। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে হয়তো মানব পাচার চলছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালি, সীতাকুন্ড ও পতেঙ্গা সি-বিচকে সন্দেহের তালিকায় এনে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মতামত