টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

গ্রাহক হয়রানী রোধে মিরসরাই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

২২৫ গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগও মিটার প্রদান

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Bidut-photo-চট্টগ্রাম, ২৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল চেয়ারম্যান পাড়া। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে চেয়ারম্যান পাড়া। তবে নতুন এই বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে গ্রাহক হয়রানীও বাড়তি অর্থ ব্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩, সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিচালক ও মিরসরাই জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৩ আগস্ট) দিনব্যাপী ২২৫ পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার প্রদান করা হয়।

নতুন সংযোগ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ মিরসরাই’র পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ ডিজিএম (কারিগর) কামরুজ্জামান, এজিএম এমএস নুরুল ইসলাম, ওএন্ডএম মোহাম্মদ শাহ জাহান প্রমুখ।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ মিরসরাই’র পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, নতুন মিটারের টাকা জমাও নতুন সংযোগ পেতে বেশিরভাগ সময় গ্রাহককে মধ্যস্বত্বভোগীর কারনে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। সাধারনত ৬২০ টাকায় মিটার সংযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও দালাল ফড়িয়ারা মিটার প্রতি ২-৩ হাজার টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে। মূলত নতুন গ্রাহকদের এসব ভোগান্তি রোধ করতে পল্লী বিদ্যুতের মিরসরাই জোনাল অফিসের সহযোগীতায় বিদ্যুত কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে একই অবস্থান থেকে নতুন সংযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল সেবা নিশ্চিত করেন। রবিবার সকালে মিরসরাই পল্লী বিদ্যুত কর্মকর্তা কর্মচারীরা স্বশরীরে চেয়ারম্যান পাড়ায় উপস্থিত থেকে ভ্রাম্যমাণ বুথের মাধ্যমে ধার্য্যকৃত ফি গ্রহণ করেন। একই সময় নতুন মিটারও ট্রান্সফর্মার স্থাপন করে গ্রাহকদের কাঙ্খিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। ফলে কোন মধ্যস্বত্বভোগী এটি থেকে আর ফায়দা লুটার সুযোগ পায়নি।

সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহককে জোনাল অফিসে এসে মিটার আবেদনও সংযোগ ফি ৬২০ জমাদানের ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা ব্যায়সহ নানা সমস্যায় পড়তে হতো। রবিবার ওয়াহেদপুরের চেয়ারম্যান পাড়ায় এসব সমস্যার হাত থেকে নতুন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ কর্মীরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে আবেদন গ্রহন, ফি জমা, মিটার, ট্রান্সফর্মার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেন। এ উদ্যোগটি ভবিষ্যতে গ্রাহক এবং বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের জন্য দৃষ্টান্ত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সারাদেশে নতুন মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালু করা হলে গ্রাহক ভোগান্তি হ্রাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে গ্রাহকদের সুসম্পর্কের সেতু বন্ধন তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে ব্যাপক চাঁদাবাজিও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ইমেজ সংকটে পড়তে হয়েছে।

মতামত