টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে বর্ষায় ব্যস্ততা বেড়েছে ছাতা কারিগরদের

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Chta-Photoচট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : মিরসরাইয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে ছাতা কারিগরদের। এখন বর্ষা মৌসুম চলছে পুরোদমে। কর্মব্যস্ত মানুষরা ছাতা মাথায় দিয়ে চলছে নিজ নিজ কর্মে। যাদের ছাতা নেই তারা নতুন ছাতা কিনছে আর যাদের ছাতা নষ্ট হয়ে বাড়িতে পরে আছে তারা ছুটছে কারিগরদের কাছে। অথবা কারিগররা যাচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি বাড়ি। ছাতা মেরামত করার কারিগরদের চলছে এখন ব্যস্ত সময়। উপজেলার প্রাচীনতম বড়দারোগাহাট বাজরে গিয়ে দেখা গেছে, ৪-৫ জন কারিগর এখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছাতার কারিগর আবুল কালাম জানান, তিনি ৩০ বছর ধরে এ পেশার সাথে আছেন। প্রতি বছরে তিনমাস শুধু কাজ চলে। বাকি নয় মাস বেকার অথবা অন্য কাজ করে সংসার চালাতে হয়। তবে এই তিনমাস বেশ কাজ চলে। দম ফেলার সময় থাকে না। দিনে যত কাজ করা যায় তত টাকা কামাই করা যায়। তাই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে থাকি। প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হয়। কখনও কখনও এর চেয়েও বেশি আয় হয়। তিনি আরো জানান, এখন নিত্য নতুন ডিজাইনের ছাতা বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সেই ছাতাগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় তাই কাজের চাপ বেশি। মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ছাতার কারিগররা এখন বসছে। ছাতাকে আগে মেরামত করে নেবে তার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বর্ষকালে সবচেয়ে উপকারী বস্তুটির নাম হলো ছাতা। কথা হয় উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকায় ছাতা মেরামত করতে আসা কারিগর মাসুদ মিয়া ও খোরশেদ আলমের সাথে। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। প্রতিবছর এই সময়ে তারা মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রায় ১৮ বছর যাবত এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনমাস ছাতা মেরামত করে তারপর বাড়ি ফিরবেন তারা। তারা মিরসরাইয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে ছাতা মেরামত করে থাকেন। এই ছাতা গ্রাস্মেও যেমন দরকার তেমনি বর্ষাতেও এর প্রয়োজন। তবে মূলত বর্ষাকালেই ঘরে তুলে রাখা ছাতা মেরামত করতে নিয়ে আসেন ব্যবহারকারীরা।

ছাতা ব্যবহারকারী আবুল কাশেম ও মোহাম্মদ শামীম জানান, রোদেলা তাপ বা বৃষ্টির ধারা থেকে মুক্তির জন্য ছোট্ট এই বস্তুর প্রয়োজনটা যে কত তা মৌসুমেই বলে দেয়। আগের আমলে কাঁঠের হাতলের ছাতা থাকলেও হাল আমলে ছাতার হাতল ও কাপড়ে বৈচিত্র এসেছে। ছোট্ট সাইজের ছাতা স্কুল ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ কিংবা প্যান্টের পকেটেও রাখা যায়। যত বৈচিত্রময় হোক ছাতা উল্টে গেলে, কাপড় ছিঁড়লে বা সেলাই খুলে গেলে ছাতা কারিগর ছাড়া কোনো উপায় নেই। বর্ষা মৌসুমে যেহেতু ছাতার ব্যবহার বেড়ে যায়, তেমনি কারিগরদের কাজের রেটও বেড়ে যায়। এখানকার দোকানীরা বড় বড় কোম্পানির ছাতা স্টিকার ও হলোগ্রাম প্রিন্ট করে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন।

মিরসরাই কলেজ রোড়ের পাশে অবস্থান করা ছাতা কারিগর আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। ফলে ছাতার কাপড়, হাতল, স্প্রিং, কামান প্রভৃতি জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। এছাড়া সারা বছরই তাদের বসে থাকতে হয়, এই সময়টায় কিছু কাজ হয়। বেশিরভাগ ছাতা কারিগররাই পৈতৃক সূত্রে এ পেশায় জড়িয়েছেন।

মতামত