টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৭বছরেও পূর্ণনির্মাণ হয়নি মানিকছড়ির ‘মহামুনি-রাজবাড়ী’ খালে ঝুলন্ত ব্রিজ

প্রতিনিয়ত ঝুুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করছে কৃষিজীবি ও স্কুল শিক্ষার্থীরা!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

Mohamoniচট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  মানিকছড়ির প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী মং রাজবাড়ী সংলগ্ন মহামুনি-রাজ বাজার-বাটনাতলী সড়কের রাজবাড়ী খালে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝুলন্ত ব্রিজটি ৬ মাস যেতে না যেতেই বর্ষার স্রোতে সর্ম্পূণ ভেসে যাওয়ার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন করে নির্মিত হয়নি এ ঝুলন্ত ব্রিজটি! ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপাড় হতে হচ্ছে দু’কূলের অর্ধলক্ষ কৃষিজীবি মানুষের।

খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার বুক চিড়ে প্রবাহিত মানিকছড়ি খালটি র্দীঘ ১৫ কি.মি. এলাকা অতিক্রমকালে খালের দু‘পাড়ের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। র্দীঘ খালে অন্তত ৯-১০টি সেতু নির্মাণ হলে কৃষকদের ভোগান্তি নিরসন হবে দু’কূলে বসবাসরত কৃষিজীবি সাধারণ মানুষের। কারণ খালের পশ্চিম পাড়ের ৩০/৪০হাজার কৃষক প্রতিনিয়ত খালের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত পাইকারি কাঁচাবাজারে তাঁদের উৎপাদিত ফল-ফলাদি, শাক সবজি নিয়ে ১৫/২০ কি.মি. রাস্তা ঘুরে বাজারে আসতে হয়। এছাড়া মহামুনি খালের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষিজীবি মানুষ, স্কুল শিক্ষার্থী ও বাজার ব্যবসায়ীরা চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে এখন (বর্ষাকালে) খালের পশ্চিম পাশের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে বেগ পেতে হয়। পাহাড়ী ঢলে খালের দু’কূল পানিতে উপচে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। কৃষিজীবি মানুষের চরম দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০০৭-২০০৮ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্ন্য়ন র্বোড ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ খালে ঝুলন্ত ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ঠিকাদার ব্রীজটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেয়ায় ৬ মাস যেতে না যেতে ওই অর্থ বছরেই বর্ষার ঢলে পুরো ব্রিজটি পানির ¯্রােতে ভেসে যায়! যা আজও কেউ পূর্ণনির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। ফলে উক্ত সড়কে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও শত শত কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীরা।

তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরজাহান আক্তার জানান, বাসা থেকে স্কুল এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের একসত্যাপাড়া গ্রামে। অথচ খালের ওপর ব্রীজ না থাকায় প্রতিনিয়ত ৪ কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে আসতে সমস্যা হয়। ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, দূরের মেয়েরা ঘুরে আসতে গিয়ে বখাটেদের ওৎঁপাতে পড়তে হয়! উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মংরাজ বাজারের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী রুপেন পাল এ প্রসঙ্গে বলেন, এ খালে অন্তত একটি ফুড ব্রীজ নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতো। কারণ বাজার থেকে বাসস্টেশন আধা কিলোমিটার দূরে হলেও এখন ২কিলোমিটার ঘুরে আমতলা হয়ে মহামুনি (বাসস্টেশন) যেতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। খালের পাড় ঘেঁষে বসবাসরত ওই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি লাব্রেঅং মারমা বলেন, খালের ওপর নির্মিত ঝুলন্ত ব্রিজটি ভেসে যাওয়ার ৭ বছর পরও নির্মাণ সংস্থার কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। অথচ সরকারের ২৫ লক্ষ টাকা পানিতে ভেসে গেল! মানুষের চরম দূর্ভোগের কারণে স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো বানিয়ে পারাপারে সাময়িক ব্যবস্থা করলেও সেটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। খালের পানি বৃদ্ধি পেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা ব্রিজটির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।

মতামত