টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজার-দোহাজারী রেলপথ আলোর মুখ দেখছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ কাজ। দীর্ঘদিন পর হলেও আশা পূরণ হতে যাচ্ছে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী পর্যন্ত ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেলপথ নির্মাণের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১’শ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত আরো ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প ব্যয়ের এক বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮হাজার কোটি টাকা) সহযোগিতা হিসাবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাকী অর্থ দেবে সরকার। ২০২৩ সাল নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে-২০১১ সালের ৩ এপ্রিল কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, ওই সরকারের মেয়াদেই রেল লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।

কিন্ত অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে দীর্ঘদিনেও ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মহা ব্যবস্থাপক পরের বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত রাখতে বলেন। পত্রে (স্মারক নং ইএনসি/পি/দোহা-কক্স/জি/২) উল্লেখ করেন, স্থানীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে ২০১১-১২ অর্থসালে মাত্র ২২ লাখ টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ স্বল্প বরাদ্দ হতে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। তাই ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, চিঠিটি ওই বছরের নভেম্বর মাসের ১২ তারিখ কক্সবাজারে এসে পৌঁছায়। এরপরই প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রকল্পটি গৃহীত হয়। ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ বাস্তবায়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত এই কারণে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলার ২৭৯ দশমিক ২৭৯ একর এবং কক্সবাজার জেলার ৯৯৩ দশমিক ৪২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে প্রায় ৫ মাস পর ১৮ ডিসেম্বর তা ফেরত পাঠিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়।

সর্বশেষ নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় এসে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার সফরে এসে রেল লাইন প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন। এর আরো ১ বছর পর এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রামু সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এরও প্রায় ৬ মাস পর রেলপথ মন্ত্রণালয় আপাতত ঘুমধুমকে বাদ দিয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করল।

মতামত