টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সংকট উত্তরণে দ্রুত নির্বাচন দিন: খালেদা জিয়া

চট্টগ্রাম, ১৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  দেশে চলমান যে সংকট চলছে তা থেকে উত্তরণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবদলের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্বাচন দিতে আবারো দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

বিএনপির প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণের তীব্র নিন্দা জানান খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার তার উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির একতরফা-ভোটবিহীন নির্বাচনে গঠিত সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে সংহত করতে গিয়ে দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে তছনছ করে ফেলেছে। তাদের দুঃশাসনের কবলে জাতি আজ অতিষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ৮৬ বছর বয়স্ক প্রবীন নেতা এমকে আনোয়ার ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু তার জামিন বাতিল করে কারগারে পাঠানোর ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। দেশের একজন সম্মানিত প্রবীন নেতার প্রতি সরকারে এই আচরণ চরম অমানবিক, অসহিঞ্চুতার প্রমাণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিবৃতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন তার উপদেষ্টা বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদকে গতকাল মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার যখন জাতীয় প্রেসক্লাবের মত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের যজ্ঞে লিপ্ত, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজকে স্তব্ধ করার জন্যই সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রতিবাদ করছে। জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি থেকে একচুলও সরে আসছে না। এজন্যই সরকার সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসত্য, কাল্পনিক মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করছে, নির্যাতন চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ন্যায়বিচার লাভের আশায় মিথ্যা, সাজানো মামলা কাঁধে নিয়ে জামিন পাওয়ার জন্য যখন বিচারকের কাছে বিরোধী নেতারা আত্মমর্পণ করছেন, তখন জামিন না দিয়ে তাদের একের পর এক কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে। এভাবে দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় এমকে আনোয়ার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককেও কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারের এই অসহিঞ্চু মনোভাবের তীব্র নিন্দা করি।’

সরকারকে দমন-নিপীড়নের পথ পরিহার করে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহবান জানান তিনি। বলেন, ‘দমন-নিপীড়ন চালিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে বিনা ভোটে এ সরকার ক্ষমতায় থাকার যে দিবা-স্বপ্ন দেখছে, তাতে ক্রমাগত তারা জনগণের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হচ্ছে।’

খালেদা জিয়া ফের নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমি পুনরুল্লেখ করতে চাই- দেশে যে চরম রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করছে, সেখান থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার আমাদের পুনঃপুনঃ উত্থাপিত দাবির প্রতি কর্ণপাত না করায় জাতি ক্ষুব্ধ। জনগণের আকাঙ্ক্ষার কথা সরকার পড়তে ব্যর্থ হচ্ছে।’

তিনি অবিলম্বে প্রবীন নেতা এমকে আনোয়ার, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ আটক সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও সাজানো মামলায় হয়রানি না করার দাবি জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি কখনোই প্রতিশোধের পথ বেছে নেবে না বরং জাতীয় ঐক্যের চেতনাকেই প্রাধান্য দেবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত