টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জঙ্গি সংগঠনকে অর্থদাতা ৩ আইনজীবী রিমান্ডে

ctg_rabচট্টগ্রাম, ১৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :   জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’কে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দিয়েছেন।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে.কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বাঁশখালী থানায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম। আদালত শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- বিএনপি দলীয় সাবেক হুইপ ও কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)। এদের মধ্যে শাকিলা ফারজানা ও লিটন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। বাপন ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার রহমতগঞ্জ-২০৬ এলাকার বাসিন্দা মো. বাহার উদ্দিনের স্ত্রী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। অ্যাডভোকেট লিটন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামাড়া থানার কুচিয়ামোড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি ঢাকায় মিরপুর ১০ এলাকায় ব্লক-সি, লাইন ১২’র ২ নম্বর বাসায় থাকতেন। বাপন ঢাকা জর্জকোর্ট মিরপুর ২ এর বড়বাগ এলাকায় ৩১/৩-বি এর বাসিন্দা মৃত মফিজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।

র‌্যাব পরিচালক জানান, শহীদ হামজা ব্রিগেডের বিভিন্ন নেতাদের অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী দিয়েছেন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া আল্লামা লিবাদি নামে দুবাইয়ের একজন নাগরিকও টাকা দিয়েছেন।

‘আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে শহীদ হামজা ব্রিগেড নেতাদের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন মোট ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। অ্যাডভোকেট লিটন ৩১ লাখ টাকা ও অ্যাডভোকেট বাপন দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা দিয়েছেন। ’

তিন আইনজীবীকে বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের বাঁশখালী আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য।

এলিট ফোর্স র‌্যাব জানিয়েছিল, শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রিণ, ব্লু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’সলেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান সংগঠকরা।

উল্লেখ্য, ১২ এপ্রিল রাতে নগরীর কোতয়ালি থানার মিডটাউন আবাসিক হোটেলে অস্ত্র কেনাবেচার সময় বিক্রেতা মোজাহের হোসেন মিঞা (৩৫) এবং বাঁশখালীতে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ ওরফে মুহিবকে (২৩) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে মোজাহেরের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকায়। সাব্বির হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গুলগাঁও গ্রামের আবুল কালাম ফটিকের ছেলে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে আকবর শাহ থানার একে খান মোড়ে শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে মো.কামাল উদ্দিন ওরফে মোস্তফা (২৪) এবং আশরাফ আলীম ওরফে আদনানকে (২৫) আটক করা হয়। তারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল।

পরে আরও তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার গ্রীণ বাংলা জাহানারা অ্যাপার্টমেন্টের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে আছে, ৫টি একে ২২, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এলজি, একে ২২ এর ১০টি ম্যাগজিন, ১টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ২ হাজার ১৫৫ রাউ- পয়েন্ট টুটু বোরের গুলি, ৫০১ রাউ- শটগানের গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, বাঁশখালীর লটমণি পাহাড় ছিল শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। সেখানে প্রত্যেক সদস্য ১০ রাউ- করে গুলি ছুঁড়ে প্রশিক্ষণ নিত। এর মধ্যে ৬ রাউ- গুলি ছোঁড়া হত একে ২২ থেকে আর ৪ রাউ- ছোঁড়া হত অন্যান্য অস্ত্র থেকে। ২০১৪ সালের শেষদিকে তারা লটমণি পাহাড়ে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু করে।

নতুন জঙ্গি সংগঠনের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউণ্টের সন্ধান পাবার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত