টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সহস্রাধিক অবৈধ ফার্মেসী: রাঙ্গুনিয়ায় নিন্মমান ও অনুমোদনহীন ওষুধে সয়লাব

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৯ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সহস্রাধিক ফার্মেসির অনুমোদন নেই। চলছে ভেজাল ও নিষিদ্ধ ওষুধের জমজমাট বিকিকিনি। ওষুধ প্রশাসনের কোন ধরণের অনুমোদন বা লাইসেন্স না নিয়ে সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছে মতো ওষুধ বেচা-কেনা চলছে দোকানগুলোতে। তবে শুধু অনুমোদনহীন দোকানগুলোতে নয়, লাইসেন্সধারী দোকানগুলোতেও দেদারছে চলছে ভেজাল-নিম্নমানের ও দেশে বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধের জমজমাট বিকিকিনি। এছাড়া নিয়ম অনুসারে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট তো নেই-ই। সচেতন মহল অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান জরুরী মনে করছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়ায় সহস্রাধিক ফার্মেসী (ওষুধের দোকান) রয়েছে । লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকানের সংখ্যা নিয়ে ওষুধ প্রশাসনে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য না থাকলেও গ্রামে-গঞ্জের অলি-গলিতে এখন ওষুধের দোকানের ছড়াছড়ি। তবে ওষুধ প্রশাসন সূত্রমতে রাঙ্গুনিয়ায় লাইসেন্সধারী ওষুধের দোকান রয়েছে ৪৮৩টি । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন অনুযায়ী দোকানগুলোতে ওষুধ বিক্রির জন্য একজন নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। আর ব্যবস্থাপত্রের বাইরে নির্দিষ্ট করে দেয়া সাধারণ কিছু ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন তারা। অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ওষুধ বিক্রি করতে প্রয়োজন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের। কিন্তু একটি ওষুধের দোকানও এ নিয়মের তোয়াক্কা করে না। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছে মতো ওষুধের বিকিকিনি বাণিজ্যে মেতেছে দোকানগুলো। আর তদারকের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও যেন অচেতন। রাঙ্গুনিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান না থাকার সুযোগে দোকানগুলোর বেপরোয়া বাণিজ্য দিন দিন বাড়ছেই। অভিযোগ উঠেছে রাঙ্গুনিয়ার বানিজ্যিক কেন্দ্র রোয়াজারহাটের একটি পাইকারী ফার্মেসীতে সরকারি ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে বীরদর্পে। পাশাপাশি রুপসা মেডিকো নামে একটি ফার্মেসীতে ভেজাল ও নি¤œমানের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাইসেন্সবিহীন এই ফার্মেসীতে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক রোয়াজারহাটের এক ফার্মেসীর মালিক দোকানগুলো ওষুধ প্রস্তুত করেনা দাবি করে বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ কিন্তু কোম্পানিগুলোই সরবরাহ করছে। সুতরাং প্রথমে এদেরকে থামাতে হবে।

জানা গেছে, ওষুধ কোম্পানি গুলোর ওষুধ বিক্রিতে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন পায় দোকানগুলো। কিন্তু ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমিশন দেয়া হচ্ছে। এতে করে বেশি লাভের আশায় ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে দোকানগুলো। সাধারণ মানুষও কোন ওষুধটি আসল কোনটি ভেজাল তা চিহ্নিত করতে অপারগ। এর ফলে এই ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের বাণিজ্য দিন দিন জমজমাট হচ্ছে। আর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় অবৈধ ওষুধ বিক্রি চলছে দেদারছে। অন্যদিকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিকসহ ভেজাল-নিম্নমানের বিভিন্ন ওষুধ।

বিভিন্ন ফার্মেসীতে নি¤œমান ও ভেজাল ওষুধ বিকিকিনির সত্যতা স্বীকার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ ফজলে রাব্বী জানান, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ বিক্রির ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এক্সপাট ছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয়না। ওষুধ প্রশাসন অভিযান চালালে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত