টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় খাল দখল করে পাকা দালাল নির্মান

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Abbas-Rangunia-khal-dokol-pচট্টগ্রাম, ১৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মধ্যম সরফভাটায় কর্নফুলির শাখা পাইট্টালী খাল দখল করে চলছে একের পর এক অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব। আর এভাবে একের পর এক অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণ চললেও দেখার কেউ নেই। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বীরদর্পে খাল দখল করে পাকা দালান নির্মান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারনের পক্ষে আবদুস সালাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ জোরেশোরেই খাল দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাকা দালান নির্মাণ করছেন। স্থায়ী পিলার নির্মাণ করে দালানের প্রায় কাজ সম্পন্ন হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কারও। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অনেক আগে থেকেই পাইট্টালী খাল দখল করে পাকা দালান নির্মাণ শুরু হয়েছে। খালটি অবৈধভাবে দখল করে বেশকিছু পাকা দালান নির্মাণ করায় খালটি প্রায় মরে গেছে। এ অবস্থায় দ্রুত এসব দালানকোঠা নির্মাণ বন্ধ এবং নির্মাণ করা দালান উচ্ছেদ করা না হলে খালটি একেবারে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, খাল দখলের এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রহস্যজনকভাবে কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে খাল দখলের মিশনে ভূমিদস্যুরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। সরকারি রেকর্ডীয় খাল হওয়া সত্ত্বেও দখলকারীরা তাদের জমি দাবি করে নির্মাণ করছে একের পর এক পাকা স্থাপনা। ভূমিদস্যুদের হাত থেকে খাল রক্ষা করা না গেলে অচিরেই খাল হারিয়ে যাবে এবং পানি সঙ্কটে পড়তে হবে তাই খালগুলো বাঁচিয়ে রাখতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন অভিযোগকারী স্থানীয় আবদুস সালাম। তিনি আরো বলেন, খাল দখল করে নিয়ে একটি বিল্ডিং নির্মাণ করে চলেছেন প্রবাসী উকিল আহমদ, নুরুল আবছার, নুরুল আলম ও মো. জাফর। খাল দখল করে ভবন নির্মাণে বারবার বাঁধা প্রদান করেও কোনো কাজ হয়নি। বরং বাধা উপেক্ষা করে দাপটের সাথে প্রবাসীরা বিল্ডিং নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় মো. আবদুল করিম জানান, খাল দখল করে দালান নির্মানের কারনে খালের পানি আটকে এখানকার হাজারী খীল বিল, ছনখোলা বিল, সাহাব বিলসহ অন্যান্য বিলের শতশত একর আমন চারা ও সব্জি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকার পানি এ খাল দিয়ে প্রবেশ করে এবং স্কীমের পানি কৃষকরা ওই খাল থেকে সংগ্রহ করেন। বর্তমানে এ বিল্ডিং নির্মাণ হলে কৃষকও জনসাধারণের ভোগান্তির সৃষ্টি হবে বলে দাবি করছেন তিনি।

জানতে চাইলে সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফি জানান, খাল দখলের বিষয়ে শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত