টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিরিজ বোমা হামলার দশ বছর

jmbচট্টগ্রাম, ১৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  এই মুহূর্তে সংগঠিত হয়ে বড় ধরনের কোনো নাশকতা ঘটানোর মতো শক্তি বা অবস্থা কোনোটাই নেই জঙ্গিদের। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দেশে তাদের কার্যক্রম চলছে। অনুকূল পরিবেশ, পৃষ্ঠপোষকতা আর আর্থিক সহায়তা পেলে জঙ্গিরা আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান।

অন্যদিকে দীর্ঘ ১০ বছরেও শেষ হয়নি দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারকাজ।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার সাড়ে ৪শ স্থানে পাঁচ শতাধিক বোমার বিম্ফোরণ ঘটায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। একযোগে কেঁপে ওঠে সারা দেশ। নিজেদের শক্তি জানান দিতে ওই বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সেই সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমেই জঙ্গি কার্যক্রমের প্রকাশ ঘটায় সংগঠনটি।

জেএমবির ওই ঘটনায় দেশের ৬৩ জেলায় ১৬১টি মামলা হয়। আসামি করা হয় ৬৬০ জনকে। এর মধ্যে ৪৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে ১০৩টি মামলার। তার মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৬৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ১১৮ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পলাতক রয়েছে ৫৩ জন।

সর্বশেষ গাজীপুরের একটি মামলার রায় আসে চলতি মাসের ১০ তারিখে। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এদের মধ্যে ১১ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জঙ্গিদের শক্তির জানান দেয়া এই সিরিজ বোমা হামলার ৫৮টি মামলা এখনো বিচারাধীন। মামলার সাক্ষী ও সরকারি আইন কর্মকর্তাদের অবহেলায় এসব মামলা এখনো ঝুলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মামলার পলাতক ও জামিনে মুক্তি পাওয়া জঙ্গিরা অনেকে ফের তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে গোপনে। আটক জঙ্গিরা কারাগারে বসেই কলকাঠি নাড়ছে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার পর জেএমবির তখনকার শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহ, আবদুল আউয়াল, হাফেজ মাহমুদসহ প্রায় সাড়ে সাতশ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃতুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর জঙ্গি আসাদুর রহমান আরিফ পরে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। ওই ৬ জঙ্গির পর আর কারো ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

রাজধানীর ৩৩টি স্পটে বোমা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ১৮টি মামলা হয়। এর মধ্যে এখনো ঢাকার আটটি নিম্ন আদালতে ১৬টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে পাঁচটি মামলার কার্যক্রম অনেকটা স্থবির। ঢাকার আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর ২৫৬ জন সাধারণ সাক্ষীর বিরুদ্ধে আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রেখেছে। আর ১৫০ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও জারি রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সাক্ষীদের হাজির করছে না, নিজেরাও আদালতে হাজিরা দিচ্ছে না। এসব মামলায় বারবার সময় আবেদন করে অনেকটা দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন করেছেন সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত