টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হাজারখানেক নেতাকর্মীসহ সাতকানিয়ার পৌর মেয়র আওয়ামী লীগে

rচট্টগ্রাম, ১৬ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক এবং সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পদ ছেড়ে বিএনপি ও এলডিপি’র প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া পৌরসভার বিএনপি দলীয় মেয়র হাজী মোহাম্মদুর রহমান। 

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যোগদানকারীদের মধ্যে আরও আছেন সাতকানিয়া পৌরসভার দুই নম্বর ও চার নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপিদলীয় কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান ও শামসুল হক এবং এলডিপি’র উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তাদের সঙ্গে অনেক নেতাকর্মীও যোগদান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলে যোগ দেন পৌর মেয়রসহ বিএনপি ও এলডিপির নেতাকর্মীরা।

এসময় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাতকানিয়ার সাংসদ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভি এবং চন্দনাইশের সাংসদ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী যোগদানকারীদের দলে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ইঁদুরের গর্ত থেকে বের হয়ে আসছেন। বিএনপিতে কোন উপায় না দেখে তারা এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন। আরও অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন।

সাতকানিয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র হাজী মোহাম্মদুর রহমান ২০১০ সালে দ্বিতীয় দফায়ও নির্বাচিত হন। তার যোগদান নিয়ে সাতকানিয়া আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি আছে। সাংসদ নদভির অনুসারীরা তার যোগদানের বিরোধিতা করছেন।

এদিকে পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগদানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি।

দলের বিরাট অংশ মনে করে দীর্ঘ দুঃসময়ে দলের সাথে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে এভাবে ভাড়া করা ব্যবসায়ীকে আওয়ামী লীগের মত দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্যবাহী একটি দলে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী করার মানসে দলে ভেড়ানো, দলের দেউলিয়াপনা ও নেতৃবৃন্দের অসারতা জনগণের সামনে তুলে ধরছেন।

এসব হাইব্রিড সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের রাতারাতি আওয়ামী লিগার বানিয়ে ফেলার এ অপচেষ্টা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কঠোর অবস্থান গিয়ে যেকোন ধরণের দলীয় বিপর্যয় ঠেকাতে বদ্ধ পরিকর বলে জানা গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি সাতকানিয়া আওয়ামী লীগকে ব্যবসায়ীদের সংগঠনে
পরিণত করার সুক্ষ্ম অপচেষ্টার কারণে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

পৌরমেয়রের আওয়ামী লীগের যোগদানের বিষয়টি এ প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতা। গত কয়েকদিন আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির চট্টগ্রামস্থ ব্যবসায়িক কার্যালয়ে কতিপয় তল্পীবাহক নেতৃবৃন্দের চা-বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত নয়।বিপুল আর্থিক লেনদেনের উপজাত এ যোগদান প্রক্রিয়া সাতকানিয়া আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনদিন মেনে নেবে না।

সাতকানিয়ার পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর জন্নত আরা বকুল বলেন, স্বার্থের জন্য মেয়র আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন, আওয়ামী লীগকে ভালবেসে নয়। আমি সাড়ে ৪ বছরে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনকালে দেখেছি তিনি কোনদিন কোন বিষয়ের বিচার সালিশ করেননি। তিনি খুব কমই পৌরসভা কার্যালয়ে আসেন। যেদিন আসেন সেদিন চেয়ারে বসেই আওয়ামী লীগকে গালিগালাজ শুরু করে দেয়। এখন সে ব্যক্তি যদি আওয়ামী লীগে যোগদান করে তা হবে শুধুই স্বার্থ হাসিলের জন্য।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাজি সাহেব পুরোদমে একজন ব্যবসায়ী মানুষ। রাজনীতিকে তিনি ব্যবসা হিসাবে নিয়েছেন। যখন যে জায়গায় ব্যবসা ভাল হবে বলে তিনি মনে করেন তখন সে জায়গায় তিনি লাফ দেন।

এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে সেজন্য আওয়ামী লীগে যাচ্ছে। আগামীতে যে দল ক্ষমতায় থাকবে আবার সে দলে যোগ দেবে।

মূল কথা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে তিনি সব সময় দলবদল করবেন। এটাই তার চরিত্র। বিএনপিতে থেকে পর পর ২ বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
উনি ‘রাজনীতি ব্যবসায়ী’ যদি না হতেন তাহলে কোনদিন বিএনপি ছেড়ে যেতেন না।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাতকানিয়া পৌর মেয়র আওয়ামী লীগে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করলে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়রকে আজ (রবিবার) দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে ফুল দিয়ে যোগদান করানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মূলতঃ পৌরসভা ও উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ড যাতে একসাথে  চলতে পারে সেজন্য তাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হচ্ছে।সাতকানিয়া পৌরসভা মেয়রকে আওয়ামী লীগে কেন যোগ দিচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগে যোগদান কি আওয়ামী লীগের টিকেটে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন করা এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী লীগে যোগদানের পর সংবাদ সম্মেলন করে সবকিছু বলা হবে। আপাতত এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। অপরদিকে সাতকানিয়া পৌর মেয়রের আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল গতকাল বিকালে কেরানীহাটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা যোগদান করেন। মিছিলশেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা হারেজ মোহাম্মদ, মো. কামাল উদ্দিন, মো. আইয়াছ, মো. অভি, মো. ইদ্রিচ, মো. মানিক, মো. জহির, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নাছির উদ্দিন, মো. হিরু ও শ্রমিকলীগ নেতা মো. জসিম উদ্দিন মো. আরিফ প্রমুখ।

সভায় বক্তরা বলেন, জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের উপর নির্যাতনকারী পৌর মেয়র সুযোগ বুঝে এখন আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন।

যোগদানের পর অতীতের ন্যায় আবারও নির্যাতন করার সার্টিফিকেট হাতে নিচ্ছেন। এরকম হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের সাতকানিয়ার মাঠে নামতে দেয়া হবে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত