টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘সাবধান! সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাবেন না কেউ!’

manbচট্টগ্রাম, ১৪ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : ‘সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যেতে কোনও টাকা নেওয়া হবে না। সেখানে কাজ করে উপার্জিত টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করলেই হবে।’

দালালদের এমন কথার ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ৫ কিশোর। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে ফেরত এসেছে তারা। এসেই জানিয়েছে, ‘আমরা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যেতে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আর সীমাহীন কষ্ট পেয়েছি তা যেন আর কারও বেলায় না ঘটে।’

ওই ৫ কিশোর জানায়, এখনও থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে নারায়ণগঞ্জের অনেকে আটকা পড়ে আছে। অনেকে মালয়েশিয়া যেতে পারলেও সেখানে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

মালয়েশিয়া থেকে বেঁচে আসা নারায়ণগঞ্জের ৫ কিশোরকে বুধবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট।

দীর্ঘ ৫ মাস পর মিয়ানমার নেভি দ্বিতীয় দফায় ১৫৯ জন বাংলাদেশিকে বিজিবির মাধ্যমে গত ১০ আগস্ট কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করে। ওই ১৫৯ জনের মধ্যে ১৭ জন কিশোর ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৭ জনকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে যার যার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ওই পাঁচ কিশোর হলো- আড়াইহাজার উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বগাদী এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (১৫), বিশনন্দী ইউনিয়নের টেটিয়া এলাকার মৃত আমিন মিয়ার ছেলে আবু হানিফ (১২), হাইজাদি ইউনিয়নের সিংহদী এলাকার আবুল কালামের ছেলে নাঈম মিয়া (১৬), গোপালদি পৌরসভা দেওকাদী এলাকার আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (১৫) ও রূপগঞ্জ উপজেলার বড়ইটিয়া সর্দারপাড়া এলাকার জামান মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া।

বাংলা ট্রিবিউনকে তারা জানায়, মূলত গ্রামের বেকার ও উঠতি বয়সীদের টার্গেট করেই দালালরা এগুতে থাকে। প্রলোভন দেখায়। ভালো বেতনের স্বপ্ন দেখায়। সংসারে অভাব ঘুছে যাবে এমন আশারবাণীও শোনায়।

মো. সুমন মিয়া জানান, ‘স্থানীয় মামুন দালাল ওরফে মামুন হারবাল নামে এক ব্যক্তির প্রলোভনে আমি মালয়েশিয়া যেতে রাজি হই। দালাল আমাদের চট্রগ্রামে নিয়ে একটি জাহাজে উঠিয়ে দেয়। প্রতিদিন খুব মারতো। কেউ কোনও কথা বললেই মার। তাদের ভাষাও কেউ বুঝতে পারে না। তারাও আমাদের ভাষা বুঝে না। দিনে দুই বেলা খাবার দিত। সকাল এক বার অল্প সাদা ভাত ও কাঁচা শুটকি। বিকালেও সাদা ভাত শুটকি। পানি দিতো না। খাওয়ার অনেকক্ষণ পর অল্প একটু পানি দিত। কেউ পানি চাইলে মেরে রক্তাক্ত করতো। একজনকে তো পানি চাওয়ার কারণে সমুদ্রেই ফেলে দিয়েছিল।’

আবু হানিফ জানায়, ‘সানা নামের এক দালাল আমাকে বলে মালয়েশিয়া গেলে পাকা ঘর তোলা যাবে। ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবো। ওই আশায় তড়িঘড়ি করে যাই। পরে মিয়ানমার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় আমার ওপর।’

রূপগঞ্জের একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতো মো. সেলিম। তাকে ৫০ হাজার টাকা বেতনের লোভ দেখায় আলামিন নামের এক দালাল। বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, ‘আলামিন বলেছে নিজের টাকা দিয়ে বিদেশ পাঠাবে। ওই দেশে গিয়ে কাজ করে পরে টাকা পরিশোধ করবো। তাই রাজি হই।’

সেলিম জানায়, ‘প্রথমে রূপগঞ্জ থেকে নরসিংদী, নরসিংদী থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার তারপর সেখান থেকে টেকনাফ নিয়ে জাহাজে ওঠানো হয়। কক্সবাজার গিয়ে আমার পাশের গ্রামের কয়েকজনের সাথে দেখা হয়। সবাইকে মারধর করেছে। বাথরুম করার সময়ও নড়াচড়া করতে পারিনি। সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কেউ কোনও কথা বলতে পারতো না। প্রথমে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেটাতো। পরে লোহার চিকন রড দিয়ে আঘাত করতো। কয়েকজনের চোখ গুঁতো দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। আবার কয়েকজনের হাত, পা ও কোমর ভেঙে ফেলছে।’- বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত