টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আড়াই বছরেও চবি শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ হয়নি

cu-eduচট্টগ্রাম, ১৪ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সৈয়দ শাহনেওয়াজ নামের এক শিক্ষার্থীর বিএসসি ফাইনাল পরীক্ষার ফল আড়াই বছরেও প্রকাশ হয়নি। শাহনেওয়াজ ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শাহনেওয়াজ ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলেও পরে দুইবার ফেল করায় ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৬ অক্টোবর বিএসসি সম্মান পরীক্ষা শেষ করে।

সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি। কিন্তু সকল শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করলেও শুধু গ্রেডিংয়ের জটিলতার কারণে শাহনেওয়াজের ফল প্রকাশ করেনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সৈয়দ শাহনেওয়াজ বলেন, ‘প্রথমে আমার ফলাফল প্রকাশ না করায় আমি ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর ফল প্রকাশের জন্য দুটি আবেদন করি। পরে আমি যোগাযোগ করলে তারা আমাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ঘুরাতে থাকে। আমি বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো কাজ হয়নি। তারা আমাকে গ্রেডিংয়ের অজুহাত দেখিয়ে আমার ফল প্রকাশ করেনি। পরে বিভাগের সভাপতির আশ্বাসে ৮ আগস্ট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর ফল প্রকাশের আবেদন করি।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শেষ করার আড়াই বছর পার হলেও ফল প্রকাশ না হওয়ায় তিনি চাকরিতে আবেদন করতে পারছেন না।

লিখিত আবেদন পাওয়ার কথা অস্বীকার করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে আমার কাছে লিখিত আবেদন করার পর বিষয়টি আমি দেখব।’

এ দিকে বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, শাহনেওয়াজ ফলের জন্য আবেদন করলে বিভাগের তিনজন শিক্ষক এ নিয়ে একেক সময় একেকজন কাজ করেন। কিন্তু তিনজন শিক্ষকই শিক্ষাছুটিতে চলে যাওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর ফল আর প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশেদ মোস্তফা নিজ উদ্যোগে এর দায়িত্ব নেন।

সহকারী অধ্যাপক ড. রাশেদ মোস্তফা বলেন, ‘আমি চাই ওই শিক্ষার্থীর রেজাল্ট প্রকাশ হোক। শিক্ষাজীবন শেষে যদি কোনো শিক্ষার্থী তার রেজাল্ট না পায় তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। আর সে জন্যই আমি মানবিকতার কারণে শাহনেওয়াজের ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব নিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘দুইবার বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার কারণে তার শিক্ষাবর্ষ পরিবর্তন হয়ে যায়। ফলে তার শিক্ষাবর্ষের গ্রেডিংয়ের সঙ্গে পরের শিক্ষাবর্ষের গ্রেডিংয়ের কোনো মিল না থাকায় তার ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত