টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মাহাথির মোহাম্মদের চেয়ে এগিয়ে শেখ হাসিনা : চট্টগ্রামে অধ্যাপক আরাফাত

arapatbgচট্টগ্রাম, ১৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : অপশক্তি মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন সুচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘১৯৭৫-২০১৫ : বিপর্যয় থেকে উত্তরণ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ‘সুচিন্তা বাংলাদেশ’ চট্টগ্রাম বিভাগ।

অধ্যাপক আরাফাত বলেন,‘অনেকে বলেন সংগঠন বা রাজনীতি করে কি লাভ। স্বার্থপরভাবে চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হতে হবে। জীবনটাই একটি রাজনীতি। কেননা ভালো মানুষরা রাজনীতিতে না আসলে অপশক্তির ক্ষমতা বেড়ে যাবে। আর অপশক্তির জয় হলে এ দেশে বসবাস করা সম্ভব হবে না। তাই তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে। ’

তিনি বলেন,‘রাজনীতির অর্থ মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করাও রাজনীতি। আর তরুণ সমাজ রাজনীতি থেকে বিমুখ হলে দেশের হাল ধরবে কে? অপশক্তি প্রতিনিয়ত চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। লড়াই আদর্শিক ও পেশী শক্তি দুই ধরণেরই হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি অনেক ছাড় দিয়েছে। আমরা আর কোন ছাড় দিতে রাজি নই। অপশক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সুচিন্তা বাংলাদেশ এক ঝাঁক সাহসী তরুণ সৃষ্টির কাজে নেমেছে। ’

১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আরাফাত বলেন,‘১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছে এদেশের জয় বাংলাকে। হত্যা করা হয়েছিল ৭২ এর সংবিধান ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ। তারা থেমে থাকেনি। দেশের ইতিহাসকে উল্টোভাবে ঘুরিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বুঝিয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করেছে ইতিহাস বিকৃতের কাজে। তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়ে দেশকে অসম্মান এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধে আইন পাস করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ’

তিনি বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তিলে তিলে শক্তি সঞ্চার করে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে তাদের মোকাবেলা করেছে। অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে গিয়ে অনেক নির্যাতন ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের। কিন্তু তারা হার মানেননি। বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে হৃদয়ে ধারণে করে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। এর ফলে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ’

ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘অপশক্তি যাতে আর কোনভাবে ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সকল বঙ্গবন্ধু সৈনিককে কাজ করতে হবে। ‍আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে অপশক্তির মোকাবেলা করতে হবে। সুচিন্তা বাংলাদেশ সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক সৈনিক তৈরিতে কাজ করছে। ’

মাহাথির মোহাম্মদের চেয়ে এগিয়ে শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের চেয়ে এগিয়ে বলে সেমিনারে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক এ আরাফাত।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক মালয়েশিয়ার কথা বললে মাহাথির মোহাম্মদের কথা চলে আসে। তবে মাহাথির মোহাম্মদের চেয়ে শেখ হাসিনা এগিয়ে। কারণ আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের কাজে শেখ হাসিনাকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কিন্তু মাহাথির মোহাম্মদকে সে রকম চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়নি। মালয়েশিয়ায় এত বেশি সমস্যা ছিল না। দেশকে উল্টো পথ থেকে ফিরিয়ে সঠিক পথে পরিচালনা করা অনেক কঠিন কাজ। প্রধানমন্ত্রী সে কঠিন কাজ সম্পাদন করেছেন। ’

অধ্যাপক আরাফাত বলেন,‘আগামী নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে তরুণ প্রজন্মকে একটি বার্তা নিয়ে যেতে হবে। সেটি হচ্ছে একটি সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সেই দেশের উন্নয়ন হয়। কারণ দেশের উন্নয়ন সেই দেশের সরকারের স্থায়ীত্বের উপর নির্ভর করে। কারণ ফের অপশক্তি ক্ষমতায় আসলে দেশ হিরো থেকে জিরো হয়ে যাবে। দুর্নীতি আর লুটপাটে ব্যস্ত থাকবে তারা। ’

১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করাকে বিকৃত মানসিকতার পরিচয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘মানুষ কতটা খারাপ হলে জাতির জনকের মৃত্যুদিনে জন্মদিনের কেক কাটতে পারে তা বিএনপিকে দেখলে বুঝা যায়। অমানুষ না হলে কেউ এ ধরণের জন্মদিন পালন করতে পারে না। তাদের আসল পরিচয় উন্মোচন করতে হবে। ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন জাতি আর সহ্য করবে না। প্রতিবাদ করতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এবং প্রত্যাখান করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। তারা আমাদের সহ্য ক্ষমতাকে অপব্যবহার করছে। যারা ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। ’

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনেছেন, শেখ হাসিনা অর্থনৈতিকমুক্তির কাজ করছেন
সেমিনারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতা তিনি চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও অর্থনৈতিক স্বাধীন একটি দেশ। কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধীরা সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন আর শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিতে কাজ করছে। ’

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনীকে মহাকাব্যের সূচনা পাঠ উল্লেখ করে চবি উপাচার্য বলেন,‘মুজিববাদের দর্শন কি? মুজিব কিভাবে খোকা থেকে দেশ নায়কে পরিণত হয়েছিলেন তা জানার জন্য তরুণ সমাজকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনী পড়তে হবে। শুধু গলা ফাটিয়ে মিটিং মিছিল করলে হবে না। বঙ্গবন্ধু কিভাবে দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে দেশের কাজে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সেটি শিখতে হবে। কারণ দেশের ৩২শতাংশ তরুণ। তোমরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিবে। ’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আধুনিক মানবিক রাষ্ট্রের বিশ্বকোষ। বঙ্গবন্ধু বাঙালির অফুরন্ত কবিতা, বাঙালির জীবন, বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গৌরবোজ্জ্বল ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির নাম নয়, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান। এ মহাপুরুষের গৌরবদীপ্ত জীবনগাঁথা এখনও আমাদের কাছে অনেক কিছুই অজানা। আমাদের অপার সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীদের মহান মুক্তিযুদ্ধের নির্ভীক চেতনায় উজ্জীবিত করতে হবে। ’

ড. ইফতেখার বলেন,‘বাঙলার ইতিহাস তিন হাজার বছরের পুরানো। তিন হাজার বছর ভিনদেশিরা আমাদেরকে শাসন ও শোষণ করেছিলেন। কোন নেতা বাঙলার ইতিহাসকে পাল্টে দিতে পারেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তিন হাজার বছরের শোষণের ইতিহাস ধ্বংস করে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলেন। ’

সুচিন্তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় আহ্বায়ক ড.আশরাফুল ইসলাম সজিবের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি এজাজ ইউসুফী।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলশী ক্লাবের সভাপতি ও সুচিন্তা বাংলাদেশের যুগ্ম সমন্বয়ক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, সুচিন্তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কার্যকরী সদস্য আবুল বশর ও আবু হাসনাত, নগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরশেদুল আলম বাচ্চু, যুবলীগ নেতা দেবাশীষ পাল দেবু, নাজমুল হক চৌধুরী শায়ন, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, লিপি আজাদ, তানভীর হক চৌধুরী, চৌধুরী জহির উদ্দিন মো. বাবর, ডা. মো. হোসেন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুর রহমান ও বোখারী আজম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত