টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘প্রতিশোধপরায়ণ’ না হতে জোটের প্রতি খালেদার নির্দেশনা

20 dalচট্টগ্রাম, ১৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : আগামীতে ক্ষমতায় এলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট কোনও অবস্থাতেই প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি করবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও জোটনেত্রী খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে প্রতিহিংসাপরায়ণ না হওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন। বুধবার রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে সাত মাস পর বৈঠকে ২০ দলীয জোটের শরিকদলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাছে নিজের এ অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এ সময় এ জোটের বিগত দিনের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গটি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া শরিক দলের দুজন চেয়ারম্যান, একজন মহাসচিব এবং একজন যুগ্ম মহাসচিব  কাছে এসব তথ্য জানান।

বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন জানান, খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ বা লক্ষ্য জানাননি। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানের বিষয়টিতে বেশ জোর দিয়েছেন। তবে আন্দোলন, কর্মসূচি বা সুনির্দিষ্ট কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এ জোটের বিগত দিনের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ম্যাডাম আমাদের কথা শুনেছেন। আজকের বৈঠকটি মূলত দীর্ঘদিন বসা হয় না, সে কারণেই। তাছাড়া তিনি বিদেশে যাবেন, এ কারণে বৈঠক ডেকেছেন। তবে ম্যাডাম একটি বিষয়ে বলেছেন, সেটি হচ্ছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে কোনও অবস্থাতেই প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া যাবে না।

ইতোমধ্যে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে খবর ছিল, সরকার চাইছে, বিএনপিতে যেকোনও উপায়ে জামায়াতবিরোধী অংশটিকে আরও শক্তিশালী করতে। অন্যথায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ক্ষমতার অংশীদার হলে সেটি আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতাদের মনে। এ লক্ষ্যে যেকোনও উপায়ে বিএনপির কাছ থেকে আশ্বাস চায় আওয়ামী লীগ।

বিষয়টির প্রতি জোটের এক নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মৃদু হেসে কোনও মন্তব্য করেননি।

সূত্র জানায়, বিগত দিনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোটকে কেন্দ্র করে নানামুখী কথাবার্তা গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেটিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি মনে করেন, জোট যে তার লক্ষ্যচ্যুত হয়নি, মূলত সেটিকে প্রমাণ করতেই আজকের (বুধবার) বৈঠক। এতে চলমান রাজনৈতিক বিষয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া জোটশরিক ধর্মভিত্তিক একটি দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব জানান, বৈঠকে খালেদা জিয়া সবার কথা শুনেছেন। এর মধ্যে অনেকে তার আলোচিত লন্ডন সফর নিয়ে জানতে চেয়েছেন। খালেদা জিয়া সফরকে ব্যক্তিগত সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার হওয়ার মতো কিছু নয় বলেও জানান তিনি।

এই নেতার দাবি, বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম কোনও বক্তব্য রাখেননি। তবে এটির কোনও সত্যতা মেলেনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন চেয়ারম্যান জানান, বৈঠক শুরু হওয়ার মুহূর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে ডাকান খালেদা জিয়া। বৈঠকের খবরটি নজরুল ইসলাম আগে থেকে না জানায় বৈঠকে আসতে সময় লাগে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক শুরুর আগে অংশ নেওয়া নেতাদের আপ্যায়ন করা হয়। এছাড়া খালেদা জিয়ার ছোটছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জন্য মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী।

এর আগে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক সাড়ে আটটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হতে হতে প্রায় নয়টা বাজে। এরপর রাত ১০.১০ এ বৈঠক শেষ হলে সবার আগে বেরিয়ে আসেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

বৈঠকে এলডিপির বিএনপিতে যোগদান বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না বা জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী হতে পারে, এসব বিষয়ে একটি শরিক দলের চেয়ারম্যান জানান, এ সব বিষয় নিয়ে কখনও একটি জোটে প্রকাশ্যে আলোচনা হওয়ার সুযোগ নেই। আজকেও হয়নি।

তবে এক প্রশ্নের উত্তরে বৈঠক কক্ষে প্রবেশের আগে জামায়াতের মহানগর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা বিএনপি বের করে দেবে, এমন কথার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে কতবার বের করেছেন? কতবার জোট রক্ষা করেছেন? এসবই মিথ্যা।’

বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘বৈঠকটি এজ ইউজুয়াল। কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেক দিন বৈঠক হয়নি, তাই ম্যাডাম সবাইকে ডেকেছিলেন।’ পরবর্তী আন্দোলন বা কর্মসূচির কোনও কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ৮০’র দশকে ছেড়ে আসা ছাত্র শিবিরের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘এ ধরনের কোনও বিষয়ই আলোচনা হয়নি। কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকের আলোচনার বিষয় প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে। এতে নজরুল ইসলাম খান আপনাদের ব্রিফ করবেন। তবে নির্বাচনের দাবিতে জোটের যে অবস্থান, তা পুনর্ব্যক্ত করার কথা বলা হয়েছে।’

এদিকে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বিগত দিনে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহতদের স্মরণ ও তাদের সম্মান জানানোর কথাও বলেছেন বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতা  নিশ্চিত করেন।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত