টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভুয়া সনদের কারণে চাকরি পাচ্ছে না বাংলাদেশের নাবিকরা

nabikচট্টগ্রাম, ১২ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : বিদেশি জাহাজে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বিভিন্ন জাহাজে বেশ কিছু বাংলাদেশি নাবিকের চাকরি পাওয়া এবং জাহাজ থেকে কিছু নাবিকের পালিয়ে যাবার কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে কোনও নাবিককে চাকরি দেবে না বলে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে। এমনকি অন্য কোনও দেশের জাহাজে চাকরি হলেও তাদেরকে এ দেশগুলোর ভিসা দেবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলি ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে ভুয়া সনদ ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একজন কর্মকর্তা বলেন, একদিকে যেমন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে অন্যদিকে বাংলাদেশিদের চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের একটি জাহাজে সাতজন বাংলাদেশির চাকরি হয়। জাহাজটি যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দরে ভেড়ে তখন তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

সিঙ্গাপুর আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশ থেকে কোনও নাবিককে তাদের জাহাজে চাকরি দেবে না।

আরেকজন কর্মকর্তা জানান, একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে সৌদি আরবে। সেখান থেকেও ১৭ জন নাবিক একটি সৌদি জাহাজ থেকে পালিয়ে যায়।

এরপর রিয়াদ আমাদের জানিয়েছে, তারাও কোনও বাংলাদেশিকে চাকরি দেবে না।

হংকং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার কাছে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, গত বছর ৫২ বাংলাদেশি ভুয়া সনদ দেখিয়ে চাকরি পাবার চেষ্টা করেছে।

ভুয়া সনদ দেখিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্ঠার অভিযোগে গত বছর ইরানও ৫০ বাংলাদেশিকে সনাক্ত করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছেন, সনদ সঠিক না ভুয়া এটি যাচাই করার সময় তাদের নেই কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ কাজটি করতে হয়। এজন্য তারা বাংলাদেশ থেকে নাবিক নিতে আগ্রহী নয়।

এ বছরের জুন মাসে ১৮ জন বাংলাদেশি ক্যাডেটকে একটি ভুয়া কোম্পানি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেয় এবং তাদেরকে মুম্বাইতে যেতে বলে। তারা তিন দিনের ভিসা নিয়ে মুম্বাইতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি টের পায় কিন্তু ততক্ষণে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা অবৈধ হয়ে গেলে তাদেরকে জেলে যেতে হয়।

কর্মকর্তাটি বলেন, নিরাপত্তাগত কারণে বাংলাদেশের কাছে ভারত অভিযোগ করেছে, কেন বাংলাদেশ নিশ্চিত না হয়ে তাদের নাবিক ভারতে পাঠালো।

গোলাম কিবরিয়া নামে একজন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ান একটি জাহাজে ক্যাপ্টেনের চাকরি পাবার পর কোম্পানি তার সনদের কপি চাইলে ধরা পড়ে যে সনদটি ভুয়া।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে নাবিকদের ভুয়া সনদ পাওয়া খুবই সোজা। এমনকি যারা নাবিকের কাজ করে না যেমন, জাহাজের ক্লিনার বা পাচক তাদেরকেও নাবিকের সনদ দেওয়া হয় যা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী।

বাংলাদেশের সবগুলো মেরিন অ্যাকাডেমিতে প্রতিবছর প্রায় ৯০০ ক্যাডেট ভর্তি হয় কিন্তু তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জাহাজ বাংলাদেশে নেই।

কর্মকর্তাটি বলেন, সরকারের মাত্র চারটি জাহাজ রয়েছে এবং বেসরকারি খাতে আছে ২৭টি জাহাজ যা এদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নিতান্তই অপ্রতুল। কিন্তু এদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ না থাকলে কোনও বিদেশি কোম্পানি তাদের চাকরি দেবে না।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত