টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের রতন হত্যা: পার পেয়ে যাচ্ছে খুনের ইন্ধনদাতারা

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান  প্রতিনিধি

Ratan-gussচট্টগ্রাম, ১০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার এক বৃদ্ধ খুনের ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছে একটি চক্র। একই সাথে খুনের প্রকৃত ইন্ধনদাতাদেরও আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৯ জুলাই রাত দুই টায় রাউজানের ডাবুয়ার মৃত মহেন্দ্র ঘোষের পুত্র রতন ঘোষ (৬৫) কে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী আন্না ঘোষকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। বর্তমানে সে চমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এদিকে রতন ঘোষকে খুনের পর খুনের ইন্ধনদাতাদের বাঁচাতে নিহতের এক আত্মীয় ইন্ধনদাতাদের যোগ সাজশে এই খুনের মামলা দায়ের করেন। এতে ইন্ধনদাতারা বাদ পড়ে যায় বলে হত্যাকান্ডের শিকার রতন ঘোষের মেয়ে বাপ্পী সরকার অভিযোগ করেছেন। এদিকে খুনের ঘটনায় একমাত্র আসামী রতন সরকার নামে একজন খুনীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পরে আদালত ওই খুনীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে তাকে ফের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিহতের মেয়ে বাপ্পী সরকারের জামাই আশীষ সরকার বলেন, আমার শশুরের সাথে পার্শবর্তী অমর, সমর ও সমীর মহাজনের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আমার শশুর রতন ঘোষ ২০০২ সালের ১৯ এপ্রিল ও ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই রাউজান থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থেকে রতন ঘোষকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন।

তিনি বলেন, রতন ঘোষের বাড়ির বিদ্যুর্তিক কাজের মিস্ত্রী রতন সরকারকে দিয়ে আমার শশুর শাশুড়িকে খুনের পরিকল্পনা করে এই তিন ভাই। গত বছর বিদ্যুতের কাজ করাকালে ইচ্ছে করে রতন সরকার শশুরের পুরো ঘরে বিদ্যুতায়িত করে দেয়। ভাগ্য ক্রমে এরা বেঁচে যান। গত ৯ জুলাই রতন সরকার রাতে আমার শশুর বাড়িতে এসে আমার শশুর ও শাশুড়িকে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে শশুর চমেক হাসপাতালে মারা যান। পরে আমার দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন বিদেশ থাকলেও আরএকজন প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমরা মামলা করবো বলে ওই চক্রটি বিনাজুরীর রবীন্দ্র লাল মুহুরীর পুত্র প্রদীপ কুমার মুহুরীকে বাদী করে একটি হত্যা মামলা (নং-১৬) দায়ের করেন। মামলাতে রতন সরকারকে আসামী করলেও ইন্ধনদাতাদের নাম দেয়া হয়নি। এদিকে রতন ঘোষের ছেলে প্রতিবন্দী টিসু ঘোষকে পিতার চার দিনের অনুষ্ঠানের কার্য করার সময় পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আন্না ঘোষ এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে রিমান্ড শেষে রতন সরকারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক খলিলুর রহমান।

মতামত