টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ধ্বংসের পথে চবি ঝুলন্ত সেতু

ctg-uচট্টগ্রাম, ১০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :সংস্কারের অভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ঝুলন্ত সেতুটি প্রায় ধ্বংসের পথে। সেতুটির অবস্থা এমন নাজুক যেকোনো সময় সেটা ভেঙে পড়তে পারে।

ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষায় সেতুটির দ্রুত সংস্কার দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত উপার্চায প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনের লেকের উপর রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে নির্মাণ করা হয় ওই সেতুটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী এর অর্থায়ন করেন। ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সেতুটি। নির্মাণের পর ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে একবার মেরামত করা হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরে আর মেরামত করা হয়নি সেতুটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটি এক পাশে হেলে গেছে। পাশাপাশি এর বিভিন্ন স্থানের কাঠ খুলে গেছে। সেতুটিতে ব্যবহৃত এক পাশের তার ছিড়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। তাই রয়েছে যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা।

এজন্য সেতুর দুই পাশে গাছের ডালপালা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া কয়েকদিনের ঝড়ে সেতুর উপর বেশ কিছু গাছ পড়েছে। কয়েকদিন পার হলেও সেগুলো সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান  বলেন, ‘মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়। তবে সেই কাজটি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দৃষ্টি নন্দন এই সেতুটি মেরামত না করে বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের দাবি যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষার স্বার্থে সেতুটি মেরামত করে ফের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে নরসিংদী থেকে ঘুরতে আসা ইকরাম হোসাইন বলেন, ‘বড় ভাইয়ের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গল্প শুনেছি। তিনি বলেছিলেন ঝুলন্ত সেতু নাকি অনেক সুন্দর। দেখতে নাকি রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুর মত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এসে দেখি ঝুলন্ত সেতুর দুই পাশ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সেতুটি বেহাল অবস্থা। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এখনও যদি সেতুটি মেরামত করা হয় তাহলে ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যাবে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এ বছরের শেষের দিকে ও আগামী বছর বেশ কয়েকটি বড় আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেজন্য বর্ষা মৌসুমের পর ঝুলন্ত সেতুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু প্রকল্পের সংস্কার কাজ করব।’

সেতুর উপর গাছ পড়ে থাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গাছ পড়ে গেছে। জনবলের অভাবে আমরা এগুলো এখনও সরাতে পারিনি। তবে খুব তাড়াতাড়ি এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত