টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৯  আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। পাচারকারীদের মাদক পাচার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় সংঘঠিত হয় সংঘর্ষ।এলাকায় মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে মাদক পাচারকারীরা তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপের বিরোদ্ধে মরিয়া হয়ে উঠে কখনো। কোন কোন সময়ে দুর্গম পাহাড়ী এলাকা দিয়ে গভীর রাতে পাহাড়ী চোলাই মদ পাচার করার সময়ে এলাকার লোকজন মাদক পাচারে বাধাঁ দিলে বাধাঁ প্রদানকারী লোকজনকে মাদক পাচারকারী সন্ত্রসীরা মারধর করে। ফাকাঁ গুলিবর্ষণ করে এলাকার মধ্যে আতংক সৃষ্টি তারা।

উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকার মধ্যে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ মাদক পাচারকারী সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ মাদক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না তাদের নির্যাতনের ভয়ে।

মাদক পাচারকারীদের অভয়রন্য পরিণত হওয়ায় দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সংঘঠিত হয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। দুর্গম পাহাড়ী এলাকার সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার মনাই পাড়া ডাক্তার ছোলা, কালী ছড়ি, ডাইলা পাড়া, বটতলী, দোচালা, কচুপাড়া, চৌধুরী পাড়া, লাইল্যা ছড়ি এলাকায় পাহাড়ী চোলাই মদের কারখানা থেকে উৎপাদিত পাহাড়ী চোলাই মদ রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হলদিয়া ইউনিয়নের বৃকবানুপুর, গলাচিপা, হলদিয়া, ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা, কলমপতি, সুড়ঙ্গা, রাউজান পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডের আইলী খীল, জঙ্গল রাউজান, পুর্ব রাউজান, ঢালার মুখ, রাউজান রাবার বাগান, ঢালার মুখ, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের পুর্ব রাউজান রানী পাড়া, গুচ্ছগ্রাম, মুখছড়ি, চিকন ছড়া, ভোমরঢালা টেইট্যা বিল, জয় নগর বড়ুয়া পাড়া, রশিদের পাড়া, কেউটিয়া, শমশের নগর, রাউজানের কদল পুর ইউনিয়নের শমশের পাড়া ভোমর পাড়া, পাহাড়তলী ইউনিয়নের উন সত্তর পাড়া সন্দ্বিপ পাড়া, জগৎপুর আশ্রম সংগ্লন্ন এলাকা দিয়ে মাদিক পাচার কারী সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত মাদক পাচার করে আসছে।

মাদক পাচারকারীরা কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ী চোলাই মদ ভাড়া করা লোক দিয়ে কাধেঁ করে রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা দিয়ে নিয়ে আসার পর কয়েকটি স্থানে পাহাড়ী চোলাই মদ ভর্তি বস্তা স্তুপ করে রাখা হয় । পরে রাউজানের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে এসব পাহাড়ী চোলাই মদ রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছে ।

গত ৮ আগষ্ট শনিবার দিবাগত রাত ১ টার সময় রাউজানের পুর্ব রাউজান গুচ্ছগ্রামের পুর্বে দুর্গম পাহাড়ী এলাকা দিয়ে মাদকপাচার কারীরা ভাড়া করা লোকজন দিয়ে পাহাড়ী চোলাই মদ পাচার করার সময়ে এলাকার লোকজন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে মাদক পাচারকারীরা এলাকার লোকজনের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করার মানসে কয়েক রাউন্ড ফাকাঁগুলি বর্ষণ করেন বলে এলাকার লোকজন তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান । এই সময়ে সংবাদ পেয়ে রাউজান থানার এস আই নুর নবীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছলে এলাকার লোকজন ও পুলিশের প্রতিরোধের মুখে মাদক পাচারকারীরা সাতটি বস্তা ভর্তি দুইশত পঞ্চাশ লিটার পাহাড়ী চোলাই মদ রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকার পুর্ব রাউজান গুচ্ছ গ্রামের পুর্বে মনাইস্যা পুকুর পাড়ে ফেলে পালিয়ে যায় । পরে পুলিশ জনতার সহায়তায় দুইশত পঞ্চাশ লিটার পাহাড়ী চোলাই মদ উদ্বার করে রাউজান থানায় নিয়ে আসেন ।

রাউজান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার আলম ভুলু বলেন, রাতেই জনতা মাদক পাচারকারীদের প্রতিরোধ করার সংবাদ পেয়ে রাউজান থানার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে মাদিক পাচার কারীরা দুইশত পঞ্চাশ লিটার পাহাড়ী চোলাই মদ ভর্তি সাতটি প্লাষ্টিকের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ যাওয়ার পুর্বে ফাকাঁ গুলি বর্ষন হয়েছে কিনা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার আলম ভুল জানেনা বলে জানিয়েছেন।

রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা দিয়ে মাদক পাচার করার কথা স্বীকার করে রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় মাদক পাচার বন্ধে এলাকার লোকজনকে নিয়ে কমিউনিউটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদর নিয়ে পুলিশ মাদক পাচার কারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে । কমিনিউটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরা গুচ্ছ গ্রাম এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার রোধে গত শনিবার দিবাঘত রাতে পুলিশকে সাহায্য করে। দুইশত পঞ্চাশ লিটার পাহাড়ী চোলাই মদ পুলিশকে ধরিয়ে দিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া মাদিক পাচার কারী কারা সেই ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে মাদক পাচার কারীদের বিরুদ্বে মামলা করা হবে বলে রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান ।

মতামত