টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড: নতুন প্রশ্নপত্র পদ্ধতির প্রভাব এইচএসসি’র ফলাফলে

edu চট্টগ্রাম, ০৯  আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :  উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে গত বারের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ পাশের হার কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি ও মফস্বল এলাকায় সমান সুযোগ নিশ্চিত না হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাশের হার ৬৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। যা গতবারের চেয়ে ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। ২০১৪ সালে পাশের হার ছিল ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ।

গতবারের তুলনায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী কমেছে ৫১৭ জন। এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ১২৯ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৬৪৬ জন।

রোববার সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কার্যালয়ে ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান।

পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাহবুব হাসান সাংবাদিকদের বলেন,‘আগে নিজ নিজ বোর্ড প্রশ্নপত্র তৈরি করতো। চলতি বছর থেকে নিজ বোর্ড বাদ দিয়ে বাকি ৭ বোর্ডের ২৮ সেট প্রশ্নপত্র থেকে যে কোন চার সেট পছন্দ করা হয়েছে। ওই প্রশ্নপত্র কোন বোর্ডের সেটাও আমরা জানি না। ’

‘ফলে আগে শিক্ষার্থীরা সিলেক্টিভ পদ্ধতি অনুসরণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। পুরো বই পড়তো না। এখন ভিন্ন একটি বোর্ডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফলাফল ভাল করতে পারেনি।’

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২১৭টি কলেজ থেকে ৮০ হাজার ৭৫৬ জন নিবন্ধন করে ৮০ হাজার ৭০৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশ করেছে ৫১ হাজার ২৪৩ জন।

এর মধ্যে বিজ্ঞানে ৯ হাজার ২২৮, মানবিকে ১৫ হাজার ৬৪ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশ করেছে ২৬ হাজার ৯৫১ জন। তিন বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল যথক্রমে- বিজ্ঞানে ১২ হাজার ৪৯২, মানবিকে ২৮ হাজার ৭৮৯ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৯ হাজার ৪২৬ জন।

উর্ত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২৪ হাজার ৪২৫ ও ছাত্রী ২৬ হাজার ৮১৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগের গড় পাশের হার ৭৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মানবিকে ৫২ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এগিয়ে মেয়েরা
এবার চট্টগ্রামে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভাল ফলাফল করেছে। চট্টগ্রামে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ ছাত্রী পাশ করেছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার ৬১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাশের হার ৫৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। মহানগর সহ চট্টগ্রাম জেলায় পাশের হার ৬৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। গতবার ছিল ৭১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এবার কক্সবাজার জেলায় পাশের হার ৬৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৭২ শতাংশ।

পিছিয়ে তিন পার্বত্য জেলা
সবসময় তিন পার্বত্য জেলা ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। এবারও ব্যাত্যয় ঘটেনি। তবে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রাঙ্গামাটি।

এ জেলার এবার পাশের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। গতবার ছিল ৫৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, এবার তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রাঙ্গামাটি। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। তবে ফলাফল বিপর্যয় ঘটলেও শিক্ষাবোর্ডের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, আমরা কেবল সমন্বয় করে থাকি। ক্লাসে যদি ভাল পড়ালেখা না হয় তাহলে রেজাল্ট খারাপ করবে এটাই স্বাভাবিক।

খাগড়াছড়িতে এবার পাশের হার ৫০ দশমিক ১৬ শতাংশ ও বান্দরবান জেলায় পাশের হার ৫৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এ দুই জেলায় গতবার পাশের হার ছিল যথাক্রমে- ৬৩ দশমিক ২৮ ও ৬৫ দশমিক ২০ শতাংশ। পাশের হার কমেছে নগরীতেও। এখানে এবার পাশের হার ৭৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত