টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘এই দেশ শিশুদের উপযোগী নয়’

nচট্টগ্রাম, ০ ৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : দেশে শিশুদের সঙ্গে একের পর এক নির্মম ঘটনার জন্য আইনের শাসনের অভাবকে দায়ী করছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বলছে, এ দেশ এখনো শিশুদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে পারেনি।

অন্যদিকে মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নির্মম এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, তারা মোটেও মানসিকভাবে অসুস্থ নয়, ঠান্ডা মাথার অপরাধী।

শিশুদের নিয়ে কাজ করা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলা হলো, ঘটনার মূলে যাওয়া প্রয়োজন।

ইউনিসেফের চাইল্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট শাবনাজ জাহেরিন বলেন, “এ ব্যাপারে একদমই সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে মানুষের মধ্যে একটা ভয় হোক বা যে কারণেই হোক তারা এটা করার সাহস পাবে না। আইনের শাসনটা সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না, যেমন আমরা রাজনের ক্ষেত্রেও দেখেছি; এখনো মূল আসামি যে তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই কারণেই আমার মনে হয় আসামিরা অনুপ্রাণিত হচ্ছে।”

কেন একের পর এক এসব নির্মম ঘটনা ঘটছে এর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় মনোচিকিৎসকরা বলছেন, আদিকাল থেকেই মানুষের মধ্যে সহিংসতার বীজ ছিল, যা নিয়ন্ত্রণ করেছে মানুষের প্রতিষ্ঠিত কিছু ব্যবস্থা। এসব ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসন। বর্তমানে এসব ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে না বলে মানুষের মনের সহিংসতার বীজ ঘন ঘন প্রকাশ পাচ্ছে নির্মমভাবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাইকোথেরাপি বিভাগের প্রধান ডা. মোহিত কামাল বলেন, “আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে, আমাদের ধর্মীয় অনুশাসন থেকে, আমাদের পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে আমরা কিছু নিয়মনীতি শিখি, কিছু নৈতিক মূল্যবোধ শিখি। আমাদের শিক্ষা আমাদের আলোকিত করে, আমরা মনের ভেতর থাকা সেই সহিংসতার বীজগুলোকে আলোকিত করি এবং সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা মানুষ বলে নিজেদের দাবি করি। যখন আমরা এই সহিংস বীজকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তখন আমরা কালক্রমে পাষণ্ড হয়ে উঠি।”

সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের যে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে, তা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো মানুষ করতে পারে না, এমন ধারণার সঙ্গে অবশ্য একমত হলেন না মনোচিকিৎসক ডা. মোহিত কামাল। তিনি বললেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, মানসিক রোগীরা এত পরিকল্পিতভাবে এত নিষ্ঠুর নির্মমভাবে কাউকে খুন করতে পারে না। যেমন ভদ্র-মুখোশধারী মানুষরা করে। আমার মতে, যারা এসব অপরাধ করে তারা সাধারণ মানুষ। তারা অপরাধ করেছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের সাজা হওয়া উচিত। তাদের বিচার করতে হবে খুনি হিসেবে।”

সিলেটে রাজনকে পিটিয়ে মারার পর সারা দেশে যে প্রতিবাদ হয়েছে, তাতে এটা প্রত্যাশিত ছিল এ ধরনের নির্মম ঘটনা হয়তো আর সহসা ঘটবে না। কিন্তু হলো উল্টোটা। গত দুই দিনের মধ্যেই দেখা গেল খুলনায় রাকিব নামের এক শিশুকে পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বরগুনা থেকে খবর আসে রবিউল নামের আরেক শিশুকে মাছ শিকারের অপরাধে চোখে আঘাত করে মেরে ফেলা হয়েছে। একই সময়ে চাঁদপুরে জিন তাড়ানোর ব্যবসাকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করতে স্বয়ং বাবা-মা তাদের সন্তানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত