টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘আমি মহাজোটের প্রতিষ্ঠাতা’ 

hefচট্টগ্রাম, ০ ৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) :চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি মহাজোটের প্রতিষ্ঠাতা। ইসলামী ঐক্যজোটের নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের সভাপতি হিসেবে আমার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ইনশাআল্লাহ আমি শীঘ্রই বের হয়ে আসব।’

নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ সব কথা বলেন।

পুলিশ এর বেশি তাকে আর কিছু বলতে দেয়নি। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ছবি তোলার পর দ্রুত সেখান থেকে তাকে উপরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মুফতি ইজহার বিজয় সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।

এর আগে, বিকেল ৩টার দিকে লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে মুফতি ইজহারকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মোহা. আব্দুল জলিল মণ্ডল সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে জানানোর কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে শেষ পর্যন্ত তা আর করা হয়নি।

ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ কারণে গ্রেফতার করে তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

মুফতি ইজহার ও তার ছেলে হারুন ইজহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে অধিকাংশ মামলায়।

ছেলে মুফতি হারুনকে লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ডাউকি এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া লস্কর-ই-তৈয়বার দুই জঙ্গি নাজের ওরফে নাজের পারবন ও শফিক ওরফে সাহফাজ শামসুদ্দিনের স্বীকারোক্তি ছিল, তাদের সঙ্গে ২০০৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে মুফতি হারুনের কয়েক দফা বৈঠক হয়। এমনকি তারা মার্কিন ও ভারত দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনাও নিয়েছিল।

মুফতি হারুনের বাবা মুফতি ইজহারের মাদ্রাসায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের জন্ম হয়েছিল বলেও অভিযোগ আছে। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের প্রাণনাশ চেষ্টার অভিযোগে আটক হওয়া কয়েক জঙ্গি জানায়, তারা মুফতি ইজহারুল ইসলামের লালখান বাজার মাদ্রাসাতেই ট্রেনিং নিয়েছিল।

ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) এ বি এম ফয়েজুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজারে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম পরিচালিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ ছাত্র আহত হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বোমা তৈরির কারিগরসহ দুই ছাত্র মারা যায়।

ওই সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ল্যাপটপ চার্জার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলেও পুলিশ ওই কক্ষ তল্লাশি করে চারটি তাজা গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। ওই দিন রাতে মুফতি ইজহারের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ১৮ বোতল এসিডও পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর খুলশী থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার ওই মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ইজহারকে গ্রেফতার করা হয়।

মুফতি ইজহারের আইনি পরামর্শদাতা এ্যাডভোকেট মো. নেজাম উদ্দিন নিজাম তার জামিন প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওনাকে বললাম কোনো কথা না বলতে, এরপরও উনি এ সব কথা বলছেন। শুধু শুধু জামিনে সমস্যা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। কারণ এ সব কথার এখন কি কোনো মানে আছে? তবে আমি আশা করি, শীঘ্রই উনার জামিন হয়ে যাবে।’

মতামত