টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

খুলশীর গেস্টহাউস ও রিসোর্টে রমরমা দেহ ব্যবসা

ibrahim khalil pic (1)_77572চট্টগ্রাম, ০ ৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) : বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকায় গেস্টহাউস ও রিসোর্টের আড়ালে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। যেখানে অভিযান চালালেই ধরা পড়ে দেহপসারিনী নারী ও পুরুষ। কিন্তু কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অসামাজিক কর্মকা-। এ ঘটনায় ত্যক্ত-বিরক্ত এলাকাবাসী।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার দুপুরে লিয়াকত আলীর গেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে ৯ নারী ও পুরুষকে আটক করা হয়। জুলাই মাসের শেষের দিকেও দু‘দিন অভিযান চালিয়ে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত ৫০ নারী ও পুরুষকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় মুনহিল গেস্ট হাউসে একজন এএসআই ও একজন পুলিশ কনস্টেবলও ধরা পড়ে। পরে নিজেদের পরিচয় দিলে তাদের ছেড়ে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে অভিযানে নেতৃত্বে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, মুন গেস্ট হাউসে যাদেরকে পাওয়া গেছে সবাইকে আটক করা হয়েছে। কাউকে ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজ নেবো। এ ধরনের অনৈতিক কাজে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, খুলশী আবাসিক এলাকায় শতাধিক গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে। এতে ক্রমেই বাড়তে থাকা দেহ ব্যবসার কারণে আবাসিকে বসবাসরত লোকজন ইমেজ সংকটে পড়েছে। এসব গেস্ট ও রেস্ট হাউসে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের রয়েছে আনাগোনা।

খুলশী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ স¤পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, সমিতির অধীনে খুলশীতে ৪১১টি বাড়ি রয়েছে। তন্মধ্যে লিয়াকত আলী খানের বাড়িটি গেস্টহাউস বানিয়ে ৮/৯ বছর ধরে দেহ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। পুলিশকে ম্যানেজ করে এখানে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে সিএনজি ট্যাক্সি ও কারে করে ৩০/৪০ নারী ও পুরুষ এসে কাজ সেরে চলে যেত।

তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় গেস্টহাউসের কারণে স্কুল, কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গেস্টহাউস বন্ধের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছিল। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, খুলশী এলাকার অভিজাত ফ্ল্যাটবাসা ভাড়ায় নিয়ে খোলা হয়েছে বহু গেস্ট ও রেস্ট হাউস। ভাড়া নেয়া দৃষ্টিনন্দন এসব বাসার সামনে লাগানো হয়েছে বাহারী নাম লিখা সাইনবোর্ড। কিন্তু আড়ালে চলছে দেহ ব্যবসা। এসব অভিজাত বাসায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ইয়াবা কিংবা বিদেশি দামি মদের বোতল।

সরেজমিনে জানা যায়, দক্ষিণ খুলশীর স্বপ্নবিলাস গেস্টে হাউসের ম্যানেজার নয়ন খুলশী তিন নম্বর সড়কে মসজিদের বিপরীতে খুলশী রিসোর্ট নামে আরো একটি গেস্ট হাউস খোলেন। ঢাকায় অবস্থানরত একজন শিল্পপতির বাসাটি ভাড়া নিয়ে খোলা হয় গেস্ট হাউসটি। খুলশী রিসোর্টের পাশেই রয়েছে স্বনামধন্য একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সিলভার ¯পুন নামের আরো একটি গেস্ট হাউস। প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য অনেক ব্যবসায়ী নেমেছেন গেস্ট হাউসের ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠিত পরিবারের অনেক সন্তান জড়িয়ে পড়েছেন গেস্ট হাউসভিত্তিক অনৈতিক কর্মকা-ে। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় চলে অবৈধ এ ব্যবসা।

খুলশী হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ বলেন, খুলশী আবাসিক এলাকা অসামাজিক কর্মকা- ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। আবাসিক এলাকায় ইচ্ছেমতো খোলা হয়েছে বাণিজ্যিক গেস্ট হাউস। আর আড়ালে চলছে অসামাজিক কাজ। পরিবেশ এতই খারাপ হয়েছে যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, গেস্ট হাউস ভিত্তিক অনৈতিক এ ব্যবসায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে আঁখি ও তার স্বামী সুমন, রেখা, মরিয়ম, মীম, সাথী ও দুলালের বউ। এদের মধ্যে দক্ষিণ খুলশী এলাকায় স্বপ্ন বিলাস নামে গেস্ট হাউসটি আঁখি নিজেই পরিচালনা করেন।

তিন নম্বর সড়কের মসজিদ কমিটির সভাপতি গোলাম সামদানি বলেন, খুলশী আবাসিক এলাকায় অসামাজিক কাজ চলছে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এ অবৈধ ব্যবসা। মসজিদের পাশেই ঘর ভাড়া করে চলছে অবৈধ কাজ। শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে নিজেই তাড়িয়েছি অসামাজিক কাজে লিপ্ত নারী-পুরুষদের। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

খুলশী থানার পরিদর্শক (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি অভিযোগ পেয়ে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িটির গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়ির মালিক ঢাকার একজন শিল্পপতি। তাকে খবর দেয়া হয়েছে যাতে বর্তমান ভাড়াটিয়া বাদ দিয়ে যাছাই বাছাই করে নতুন কাউকে ঘরটি ভাড়া দেয়া হয়।

মতামত