টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অটোরিক্সা বন্ধ ঘোষণা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ভোগ চরমে

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai-Photoচট্টগ্রাম, ০৬ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)  :মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) রাত আনুমানিক নয়টা। মিরসরাই সদর থেকে উপজেলার নয়দুয়ারিয়া এলাকায় বাড়িতে আসার জন্য প্রায় ২ ঘন্টা অপেক্ষা করেও সিএনজি অটোরিক্সা পাননি ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম। পরে একটি ট্রাক যোগে রাত ১১টায় তিনি বাড়ি এসে পৌছান। কারণ সড়কে কোন ধরনের সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল না করায় এমন বেকাদায় পড়তে হয়েছে তাকে। শুধু মোরশেদ নয় এভাবে শত শত সিএনজি যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পৌাহাতে হচ্ছে। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩৩ কিলোমিটার সড়কে তিন চাকার যান বন্ধ করে দেয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এতে জনগণের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করে সিএনজি ট্যাক্সি-টেম্পো বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে এই ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাঝে-মধ্যে দুএকটি সিএনজি চলাচল করলেও পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু কিছু সিএনজি মহাসড়কে চলাচল করার কারণে পুলিশ তাদের আটক করে।পরবর্তীতে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে সিএনজিগুলো ছেড়ে দেয়। অবশ্যই সিএনজি আটক কওে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ এমএকে ভূঁইয়া, জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী ও জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন।তারা বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে তিন চাকার কোন যানবাহন চলাচল করতে দেবোনা। যারা এ নির্দেশ অমান্য করবে তাদেও আইনের আওয়াতায় আনা হবে।

এদিকে, পরিবহন সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রীরা। একদিকে সড়কে পরিবহন সংকট, অপরদিকে দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া গুনে তাদের গন্তব্যে পৌঁছুতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ভুক্তভোগী যাত্রীদের। দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা আলী আজগর বলেন, ঠাকুরদিঘী থেকে বারইয়ারহাট যেতে সকাল নয়টায় ঘর থেকে বের হয়েছি। কিন্তু কোন গাড়িতে উঠতে পারছি না। সরকার সিএনজি অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে আমরা কিভাবে গন্তব্যে পৌঁছবো ?

আলী আজগর বলেন, ‘কোন কোন সময় বাসে ওঠার সুযোগ পেলেও সিট পূর্ণ থাকায় তারা নিচ্ছেনা। এ জন্য গাড়িতে উঠে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সিএনজি ট্যাক্সি ৪ থেকে ৫জন হলেই ছেড়ে দেয়। এতে আমাদের সময় বাঁচে। সিএনজি ট্যাক্সি বন্ধ না করে আলাদা লেইনের দাবি জানান তিনি ।

একই অভিযোগ করেছেন মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামীম। তিনি জানান, প্রতিদিন বড়দারোগাহাট থেকে আমি সিএনজি করে আমার দোকানে মামলামাল নিয়ে আসি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধওে মামলামাল আনতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ভ্যানে করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আনতে হচ্ছে।

সিএনজি মালিক-শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার তিন চাকার যান চলাচল করে। এরমধ্যে মিরসরাই-সীতাকুন্ড অংশে ১০ হাজার চলাচল করে। প্রতিদিন এসব যানবাহনে করে হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে। কিন্তু সরকার তিন চাকার যান বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও তিন চাকার মালিক, চালক ও শ্রমিকরা।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই সিএনজি চালক শ্রমিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম ফারুক (ফারুক কোম্পানী) জানান, ‘সরকার বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করে মহাসড়কে তিন চাকার যান বন্ধ করে দেয়। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-চালক ও শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। মূলত মহাসড়কের ওপর নির্ভর করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৪০ হাজার তিন চাকার যান চলাচল করে। এসব যানবাহনে ৪০ হাজার চালক ছাড়াও শ্রমিক রয়েছেন কমপক্ষে আরো ১০ হাজার। কিন্তু মহাসড়কে তিন চাকার যান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে তারা বিপাকে পড়েছেন। সাধারণ যাত্রীরাও তিন চাকার যানের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এজন্য সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’

প্রসঙ্গত : মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের ওপর পহেলা আগস্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এরআগে গত ২২ জুলাই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে তদারক কমিটির পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত