টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে তীব্র ভাঙ্গণ: হালদার পেটে শত শত বসতঘর

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

Raozan-Haldar-pete-bosotgorচট্টগ্রাম, ০৫ আগস্ট (সিটিজি টাইমস) ::  চট্টগ্রামের রাউজানে প্রবল টানা বর্ষণ ঘুর্ণিজড় কোমেনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার স্রোতে হালদার বেরিবাঁধ ভেঙ্গে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া নামের পুরো একটি গ্রাম। এ এলাকায় হালদার তীব্র স্রোতের তোড়ে নদী তীরবর্তি শত শত পরিবারের বসত ঘর ভেঙ্গে পড়ছে নদী গর্ভে। পাশাপাশি শত শত একর আবাদি জমি হালদার করাল গ্রাসে গড়েয়ে পড়ছে নদী গর্ভে। এমন চিত্র প্রতিটা মুহর্তে দেখা যায় হালদা পাড়ের মোকামী পাড়া গ্রামে।

দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না গেলে বাড়িঘরসহ ভূ সম্পত্তি হারাবে নদীর তীরবর্তী শত শত বাসিন্দারা। এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নদীর দখলদারদের অত্যাচারে হালদা নিজের গতি হারিয়ে ফেলেছে। মানুষের সৃষ্ট পথে চলতে গিয়ে নদীর প্রবাহ জনবসতির দিকে এগুচ্ছে।

ভাঙ্গনের কবলে থাকা মোকামী গ্রামের সমাজসেবক সেবক এস.এম. রফিক আহমদ বলেন, গত কয়েকদিনের প্রবণ বর্ষণ ও ঘূণিজড়ের প্রভাবে বাড়ীর পার্শ্বের হালদার ভেড়িবাধঁ ভেঙ্গে গেছে। নদীর পানির স্রোতে বসতঘর ও আবাদি জমি হালদার পেটে হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এ র্পযন্ত গ্রামের খলিল দফাদারের বাড়ীর ৭/৮ ঘর, তফাজ্জল মাস্টারের বাড়ীর ৫ ঘর, হাফিজুর রহমান চৌধুরী বাড়ীর প্রায় ৩০ বসতঘর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এভাবে ভাঙ্গণ অব্যাহত থাকলে কয়েকদিনেই ঝুঁিকর মধ্যে থাকা এসব বসত ঘর হারিয়ে যাবে নদী গর্ভে। তিনি আরো জানান, গত কয়েকদিনে নদী গর্ভে হারিয়েছে রোপা আমনসহ আবাদীজমি। এছাড়াও গত কয়েকদশকে এ এলাকায় সাকর্দা, পশ্চিম মোকামী পাড়া ও মোকামী পাড়ার হাজারো পরিবার তাদের বসতঘর হারিয়ে এখন দেশের বিভিন্নস্থানে যাযাবর হয়ে জীবনযাপন করছে।

হালদা পদির্শনকালে দেখা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া, কচুখাইন, পশ্চিম নোয়াপাড়া, দেওয়ানজিরঘাট, উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম, পশ্বিম গুজরার নাপিতেরঘাট, হালদারমুখ, দেওয়াজিরঘাট, সাকর্দার হালদার চর এলাকা থেকে চলছে বালু উত্তোলন। এর ফলে ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ছে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, নদীর ভাংঙ্গন শুরু হয়েছে, মোকামী পাড়া, পশ্চিম গহিরায়, আজিমের ঘাট, ডোমখালী, পশ্চিম ঢাকাখালী, মইশকরম, উরকিরচর, দেওয়াজিরঘাট, কচুখাইন গ্রামে। ওসব এলাকার জনসাধারণ জানিয়েছে, এ বর্ষায় অনেক পরিবার ভাংঙ্গনে পড়ে যাযাবর হয়ে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম বলেন, মোকামী পাড়ার নদী ভাঙ্গণ প্রতিরোধে আজ মঙ্গলবার টেলিফোনে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন দুএকদিনের মধ্যে ভাঙ্গণ কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করবেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, হালদা নদীর উপর বিভিন্ন ধরণের দখলবাজী ও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে স্থানীয় সাংসদ রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে হালদার অনেক জায়গায় বালু উত্তোলণ অব্যাহত রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ ভাঙ্গণ কবলিত এলকার বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে ভাঙ্গণ কবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে হালদা তীর রক্ষাবাধঁ নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হউক।

এ প্রসঙ্গে সাংসদ ফজলে করিম এমপি বলেন, হালদার ভাঙ্গণ প্রতিরোধে উপজেলার মোকামী পাড়ায় রক্ষাবাঁধ নির্মাণে জোর প্রচেষ্টা চলছে। এ সংক্রান্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধিন আছে। আশা করছি শীঘ্রই সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় থেকে হালদা ভাঙ্গণ প্রতিরোধে বরাদ্ধ দেয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত