টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়ির রাবার ড্রেমে লাশ!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::ফটিকছড়ির আন্দার মানিক গ্রামে জনৈক প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর গর্ভে আসা সন্তানের জন্ম ও পরবর্তীতে স্ত্রী কর্তৃক ৩০ জুলাই রাতে নবজাতককে রাবার ড্রেমে ফেলে দেয়ার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর পরিবারে চলছে বেসামাল অবস্থা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গর্ভধারণীর সত্যতা স্বীকার!

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৩ বছর পূর্বে মানিকছড়িস্থ গরমছড়ি গ্রামের আবুল কাশেমের দ্বিতীয় কন্যা(২২) এর সাথে ফকিছড়ির আন্দারমানিক গ্রামের ফরিদ সরকারের প্রবাসী (ওমান)ছেলে মো. আবদুল হান্নানের বিয়ে হয়। সন্তান সম্ভাবণা স্ত্রীকে রেখে হান্নান বিদেশ যায়। পরে তাদের সংসারে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। যার বর্তমান বয়স আড়াই বছর। নাম সাদিয়া আক্তার। ৩ মাস পূর্ব হান্নান ছুঁটিতে আসে এবং স্ত্রী দৈহিক গঠন দেখে তার সন্দেহ হয়। স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে পেটে টিউমার হয়েছে বলে স্বামীকে সান্তনা দেয়। এক পর্যায়ে গত ৩০ জুলাই হান্নানের বাড়ীতে চাচাত ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটে এবং সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে হান্নানের স্ত্রী একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে। ফলে এ নিয়ে কানা-ঘুষা শুরু হলে আত্ম-সম্মান রক্ষার্থে ছেলে পক্ষ মেয়েকে নবজাতকসহ (সিএনজি যোগে) মেয়ের পিত্রালয় মানিকছড়িতে পাঠিয়ে দেয়। মেয়ে পিত্রালয়ে আসার পথে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় ফটিকছড়িস্থ ভুজপুর এলাকার রাবার ড্রেম ব্রিজের ওপর থেকে নবজাতককে মৃত্যু ভেবে পানির স্রোতে ফেলে দেয়! এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পরিবারে একদিকে শোক অন্যদিকে নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সূত্রপাত ঘটে। যার কারণে বিষয়টি প্রসাশনের নজরে আসলে মানিকছড়ি থানার ও.সি মো. শফিকুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে রবিবার রাত সাড়ে ১১ টা- সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত মেয়ের পিত্রালয় গরমছড়িতে অবস্থা করে বিষয়টি তদন্ত করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে (জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে) মেয়ের পিতা আবুল কাশেম, মেয়ের বড় বোন মরিয়ম বেগম ও গর্ভধারণী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে দেবর আবদুল হাই (৩৩) এর সাথে পরকীয়ার সূত্রে নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর পর শিশুটি মারা যাওয়াতে সমাজে অপবাদের ভয়ে মৃত্যু ছেলেটিকে রাবার ড্রেমে ফেলে দেয়া হয়! ফলে এ নিয়ে উভয় পরিবারে মতানৈক্যের (বেসামাল অবস্থা) সৃষ্ঠি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি থানার ও.সি মো. শফিকুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল ফটিকছড়ি থানার অধীনে হওয়াতে উভয় (ছেলে-মেয়ে)পক্ষকে প্রয়োজনে ভুজপুর থানা পুলিশের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। তবে এ রির্পাট লেখা পর্যন্ত (সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা )ভূজপুর থানায় এ ধরণের কোন অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ও.সি মো. জাহেদুল করিম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত