টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এই প্রথম রিভিউতে ফাঁসির আসামির সাজা কমলো

ICT_Bangladeshচট্টগ্রাম, ০৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::   বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো ফাঁসির আসামির সাজা রিভিউ আবেদনে কামালো। ১৬ বছর আগে ধর্ষণ ও হত্যার এক ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মানিকগঞ্জের শুক্কুর আলীর সাজা কমিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আ​পিল বিভাগ এক আদেশে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে শুক্কুরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান।

আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপমহাদেশে রায় রিভিউ করে সাজা কমানোর ঘটনা বিরল। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম।

১৯৯৯ সালে মানিকগঞ্জে সাত বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী শুক্কুর আলীর বিচার শুরু হয়। ২০০১ সালের ১২ জুলাই মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শুক্কুরকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) শুক্কুর আলীর পক্ষে হাইকোর্টে আপিল করে। ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগেও বহাল রাখা হয়।

এর পর ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের দুটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ব্লাস্ট। ২০১০ সালের ২ মার্চ হাইকোর্ট ১৯৯৫ সালের ৬(২) ধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। ওই সময় হাইকোর্ট বলেন, অপরাধ যা-ই হোক না কেন, সংবিধান অনুসারে কোনো অপরাধেরই একমাত্র সাজা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না। তবে শুক্কুর আলীর সাজা হাইকোর্টে বহাল রাখা হয়।

ব্লাস্ট শুক্কুর আলীর সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে যায়। চলতি বছরের ৫ মে আপিল বিভাগ ১৯৯৫ সালের আইনের ৬(২) ধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। তবে শুক্কুর আলীর ফাঁসি বহাল রাখে। আপিল বিভাগের দেওয়া সাজা বহাল রাখার আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করা হয়। আজ ওই রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ শুক্কুরের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।- ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত