টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভাসহ ১২ ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক পরিবার পাহাড় ধ্বস ও ভাঙ্গনের কবলে

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া  প্রতিনিধি 

Rangunia-nodi-vangon-picচট্টগ্রাম, ০৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::  অবিরাম বর্ষন, পাহাড়ী ঢলে ও কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলি, ইছামতি ও কয়েকটি শাখা নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। বর্ষার পানি কমার পর আরো বেশী ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ৪০ হাজার পরিবার। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন থামার পর অসংখ্য মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা অভ্যন্তরীন সড়কের অংশ বিশেষ ও অন্যান্য স্থাপনা এখন মারাত্বক ভাঙ্গন কবলিত । এর সাথে যোগ হয়েছে পাহাড় ধ্বস । অতিবর্ষনে পাহাড় ধ্বসে বেতাগী ইউনিয়নের চেংখালী, বালুছড়া, ঢেমিরছড়ায় ৬টি মেটো ঘর ধ্বরস পড়েছে । এভাবে পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া আশ্রয়ন প্রকল্প ও লক্ষিরখীলে ৬টি । সরফভাটা ইউনিয়নের পোড়ামুড়া গ্রামে ৪টি ঘর । এছাড়া পদুয়া ইউনিয়ন ও কোদালা ইউনিয়নে পাহাড় ধ্বসে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে ।

অতিসত্বর ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার উত্তর ঘাটচেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সেলিম জানান, ইছামতি নদীর ভাঙ্গনে সোনাইছড়ি, জলদাস পাড়া, ইছাখালীসহ ১০ স্থানের ৫ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে। অতি সত্বর ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে এসব পরিবারের বাড়িঘর নদীর পেটে চলে যাবে।

রাজা নগর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মোস্তফা জাহাঙ্গীর জানান, ইছামতির নদীর ভাঙ্গনে রাজা নগরের শতাধিক পরিবার ভাঙ্গন আতংকে। শামুক ছড়ি এলাকায় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের বাড়ি ঘর পানিতে নিমজ্জিত।

নাপিত পুকুরিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা সেলিম উদ্দিন নঈমী জানান, বর্ষার টানা বর্ষনে দ্রুত ভাঙ্গছে নাপিত পুকুরিয়া শিলক খাল। খালের ভাঙ্গনে মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিম খানা ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। অতি সত্বর ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে এই বর্ষায় খালে বিলীন হয়ে যাবে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত মসজিদ, মাদ্রাসাসহ এতিমখানা। মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে প্রতিনিয়ত ভাঙ্গন আতঙ্কে। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার দেড় শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার। যাদের থাকার জন্য ভিটার ঐ ঘরটিই একমাত্র বসতভিটা। বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে এই পরিবারগুলো। ভাঙ্গনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় মোহাম্মদ সাজ্জাদুল করিম জানান, নাপিত পুকুরিয়া নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা রয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্কে। ভিটে বাড়ি হারানোর আশংকায় দিন কাটছে তাদের। পাশাপাশি এলাকার বৃহত্তম মসজিদটি নদী ভাঙ্গনের মুখে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আকতার হোসেন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ও ভাঙ্গন কবলিতদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পোমরা এলাকার নুরুল ইসলাম জানান, পোমরা আছুয়ার পাড়ার বুইজ্যা ছড়ার খালের ভাঙ্গনের মুখে ১০ পরিবার। এই বর্ষায় ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে ঘর বাড়ি হারিয়ে পথে বসতে হবে।

পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউছার নগরের বাসিন্দা মো. রানা জানান, ইছামতি নদীর ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে দেড়শ বছরের পুরনো কবরস্থান । নদী ভাঙ্গনে জনসাধারনের চলাচল রাস্তাটিও এখন বিলীন হওয়ার পথে। নদী ভাঙ্গনরোধে এলাকার সাংসদসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী। দক্ষিন ঘাটচেক গ্রামের নুর ইসলাম জানান, ইছামতি নদী ভাঙ্গনে সাহেব বাড়ি এলাকাসহ প্রায় শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের কবলে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত