টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৯ আগস্ট থেকে আইপিও আবেদন: টার্নওভার বাড়লেও মুনাফা কমেছে কেডিএস এক্সেসরিজের

kds-accesচট্টগ্রাম, ০২ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::  ব্যবসায়িক লেনদেন (টার্নওভার) বাড়লেও ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে কেডিএস এক্সেসরিজের মুনাফার পরিমাণ কম হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিট ক্যাশ ফ্লো (নগদ প্রবাহ) না থাকার কারণে নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতাও ছিল না কোম্পানিটির। আবার ২০১৪ সালে কোম্পানিটির ক্যাশ ফ্লো বাড়লেও মুনাফায় তেমন পরিবর্তন হয়নি। কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাস বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আগামী ৯ আগস্ট থেকে এ কোম্পানির আইপিও আবেদন শুরু হবে। ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মোট ২৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য হচ্ছে ২০ টাকা। সংগৃহীত অর্থ কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ বাবদ ব্যয় করবে।

প্রসপেক্টাসে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১২ সালে কোম্পানিটির টার্নওভারের পরিমাণ ছিল ১৫১ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০১২ সালের তুলনায় কোম্পানিটির টার্নওভার বেড়েছে ৮.৬১ শতাংশ। কিন্তু টার্নওভার বাড়লেও কমেছে মুনাফার পরিমাণ। ২০১২ সালের ১১ কোটি টাকার মুনাফার বিপরীতে ২০১৩ সালে তা হয়েছে সাড়ে ৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে মুনাফার পরিমাণ কমেছে ২২.৭২ শতাংশ। টার্নওভার বাড়ার পরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আয়ের ক্ষেত্রে। অপরদিকে ২০১৪ সালেও কোম্পানিটির আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০১৪ সালে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

প্রসপেক্টাস তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ সালে অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ছিল শেয়ারপ্রতি ৪১ পয়সা। আর নীট ক্যাশ ফ্লো ছিল প্রায় ২০ পয়সা। ফলে ২০১৩ সালে কোম্পানিটির ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতাও ছিল না। ২০১৪ সালে কোম্পানিটির অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো শেয়ারপ্রতি ৪.৬৭ টাকা হলেও নীট ক্যাশ ফ্লো হয়েছে মাত্র ৭ পয়সা।

কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিবহন খরচ বেশি হয়েছিল। যে কারণে মুনাফার পরিমাণ কমে এসেছিল। আর ২০১৩ ও ১৪ সালে পূণর্বিনিয়োগের কারণে ক্যাশ ফ্লো কম হয়েছে।

সম্পদ পুনর্মূল্যায়নজনিত কারণে (রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস) ২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রিজার্ভে যোগ হয়েছে। কিন্তু এ সম্পদের জন্য কোনো ডেফার্ড টেক্স গণনা করেনি কেডিএস। টেক্স গণনা করা হলে সম্পদের পরিমাণ কমে আসত।

ডেফার্ড টেক্স গণনা না করা বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, পুনর্মূল্যায়নজনিত সম্পদ কখনো বিক্রয় করা হবে না, তাই ডেফার্ড টেক্স গণনা করা হয়নি।

অবশ্য সম্প্রতি আইপিওতে আসা আমান ফিড সম্পদ পুনর্মূল্যায়নজনিত কারণে বিএএস-১২ অনুযায়ী ডেফার্ড টেক্স গণণা করেছে। তাদের মতে, রিভ্যালুয়েশনজনিত গেইনের ওপর টেক্স দিতে হবেই।

সে হিসাবে বর্তমানে আনরিয়ালাইজড গেইনের ওপরে ডেফার্ড টেক্স গণনা না করে সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখিয়েছে কেডিএস।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০১২ সালে করপূর্ববর্তী মুনাফার ওপর ১৭.৪৯ শতাংশ হারে কর সঞ্চিতি রাখে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০১৩ সালে কমিয়ে রাখা হয়েছে ১৪.১৭ শতাংশ, যাতে ২০১৩ সালে কর সঞ্চিতিজনিত ব্যয় কম হয়েছে। ২০১২ সালের থেকে ২০১৩ সালে টেক্স প্রদানের পরিমাণও বেশি। তারপরও ২০১৩ সালে কর সঞ্চিতি হার কম রাখা হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আগের বছরগুলোতে প্রায় ৫৪ লাখ টাকার কর সঞ্চিতি বেশি রাখা হয়েছিল। যে কারণে ২০১৩ সালে কম রেখে সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে হিস্টোরিক্যাল আর্নিং বেজড ভ্যালু পদ্ধতিতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের কেডিএস এক্সেসরিজের শেয়ারের ইস্যুদর ৩৪ টাকা হওয়া উচিত বলে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে দাবি কর হয়েছে। তবে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসছে ২০ টাকা দরে।

এর কারণ হিসেবে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই দরে পুঁজিবাজারে আসছে কেডিএস। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

২০১০, ২০১২ ও ২০১৩ সালে বোনাস শেয়ার প্রদান করেছে কেডিএস এক্সেসরিজ। ৩ বছরই কোম্পানিটি যে পরিমাণ মুনাফা করেছে তার চেয়ে বেশি লভ্যাংশ প্রদান করেছে। ফলে মুনাফা করা সত্ত্বেও ৩ বছর সংরক্ষিত আয় কমেছে কোম্পানিটির।

শ্রম আইন অনুযায়ী নীট আয়ের ৫ শতাংশে শ্রমিকদের উন্নয়নে ফান্ড গঠন ও ফান্ডের দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। ২০০৬ সাল থেকে ফান্ড গঠনের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হলেও কেডিএস এক্সেসরিজে ২০১০ সালে এ ফান্ড গঠন করেছে। তবে ফান্ড গঠন করা হলেও শ্রমিকদের মধ্যে এ ফান্ড থেকে কোনো অর্থ বিতরণ করেনি।

এ সব বিষয়ে কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) বিপ্লব কান্তি বণিক বলেন, আমাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগতমান ভাল হওয়ায় চাহিদা অনেক। এ কারণে গার্মেন্ট শিল্পে পোশাকের অর্ডার এলে অটোমেটিক আমাদের কোম্পানি অর্ডার পেয়ে যায়। ফলে আমরা ভাল ব্যবসা করছি এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করব। তিনি আরও জানান, কেডিএস এক্সেসরিজে রয়েছে দক্ষ জনবল এবং ভাল সাপ্লাই চেইন। আমরা চট্টগ্রাম ফ্যাক্টরি থেকে চট্টগ্রামের চাহিদা এবং গাজীপুরের ফ্যাক্টরি থেকে ঢাকার চাহিদা পূরণ করছি। নিজস্ব লজিস্টিক সাপোর্ট থাকায় যথাসময়ে যথাযথভাবে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের জন্য একটি ভাল কোম্পানি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আয়ের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে ‍তিনি বলেন, সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে বেশি হারে বোনাস শেয়ার প্রদান করা হয়েছে। আর আগামীতে শ্রমিক ফান্ডের টাকা বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

১৯৯১ সাল থেকে ব্যবসা করে আসা ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় রয়েছে ১৭ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯.৬৩ টাকায়। একই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ২.১৪ টাকা করে। কোম্পানিটির মূল পণ্য হচ্ছে কার্টন, লেবেল, ন্যারো ফ্যাব্রিক্স, ইলাস্টিক, অফসেট প্রিন্টিং, বাটন ইত্যাদি। কোম্পানিটি ব্যবসা পরিচালনা করছে গাজীপুর ও চট্টগ্রামে দুই প্রজেক্টের মাধ্যমে।-দ্য রিপোর্ট

মতামত