টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আমাকে বহিষ্কারের এখতিয়ার আ.লীগের নেই

চট্টগ্রাম, ০২ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দাবি করেছেন, তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি আওয়ামী লীগের ভুল ছিল এবং এই এখতিয়ার দলটির নেই। এজন্য তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি স্পিকারের কাছে পাঠানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

আজ রবিবার ‍দুপুরে নির্বাচন কমিশনের জবাবি চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকী এ দাবি করেন।

জাতীয় সংসদের প্যাডে লতিফ সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠি তার ব্যক্তিগত সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে জমা দিয়ে যান।

চিঠিতে লতিফ বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কষ্টকল্পিত বানোয়াট ও ভিত্তিহীন যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আলোচনার স্বার্থে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে আমি ওই বক্তব্য দিয়েছি, তাহলেও আওয়ামী লীগ থেকে সদস্যপদ বাতিলের এখতিয়ার কেন্দ্রীয় সংসদের নেই।”

চিঠিতে তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি বক্তব্য দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে বক্তব্য দিয়েছি বলে বিবেচনার সুযোগ নেই। আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।”

গত ১৩ জুলাই লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সিইসিকে চিঠি দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর ১৬ জুলাই লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও লতিফ সিদ্দিকীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়। তাদেরকে ২ আগস্টের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়ার পরই এ দুজনকে নিয়ে শুনানি করার কথা ইসির।

সংবিধানের ৬৬ ধারা, ৭০ ধারা অথবা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মোতাবেক লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আমেরিকার নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এরপর প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে এবং পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। দীর্ঘ আট মাস পর জুলাইয়ের প্রথম দিকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে।

ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন আদালতে তার নামে একাধিক মামলাও হয়। ২৫ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠান আদালত। গত ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পান তিনি।

মতামত