টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুন্ডে বন্ধ সিএনজি অটোরিক্সা: দূর্ভোগে ছাত্র,ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

PICUP-BENচট্টগ্রাম, ০২ আগস্ট (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে দ্বিতীয় দিনের বন্ধ রয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা। চলতি মাসের ১ম দিন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে না চলা নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, ছাত্রী, চাকুরীজীবিসহ সাধারণ মানুষ। গ্রাম-অঞ্চলের একমাত্র ভরসা ছিল সিএনজি অটোরিক্সা। কিন্তু সে সিএনজি অটোরিক্সা না পাওয়াতে ৫-৮ কিলোমিটার দূর থেকে হেটে হেটে সীতাকুন্ড আসতে দেখা গেছে স্কুল, কলেজ পড়–যা ছাত্র/ছাত্রীসহ চাকুরীজিবীদের। কেউ কেউ আবার বিকল্প ব্যবস্থাতে গন্তব্যস্থলে পৌছার চেষ্টা করছে। সীতাকুন্ডের মিরেরহাট এলাকায় পিকআপ ভ্যানে করে যাত্রী আনা নেওয়া করতে দেখা গেছে।

কলেজ পড়–য়া আর্জিনা আক্তার মুন্নি প্রতিবেদককে বলেন, কলেজে যাওয়ার জন্য অনেক সময় ধরে গ্রামের সিএনজি স্টেশনে দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু কোন সিএনজি না পাওয়ায় পরে হেটে হেটে আসতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লেগে যায়। আর ততক্ষণে কলেজের সময়ও পার হয়ে যায়। এখন আবার দেড় ঘন্টা লাগবে বাড়িতে যেতে। কোন লোকাল সার্ভিস না থাকায় আবারো হেটে হেটে বাড়িতে যেতে হবে। ওই কলেজ ছাত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, এভাবে আর কতদিন চলবে?

অন্যদিকে চাকুরীজিবী মো. হান্নান প্রতিবেদককে বলেন, ভাই আমি চট্টগ্রামে ছোটখাট একটা চাকুরী করি। প্রতিদিন সীতাকুন্ড-চট্টগ্রাম আসা যাওয়া করেই চাকুরী চালিয়ে যাচ্ছি। সকালে ফাষ্টটাইমে এসে ট্রেনে করে চট্টগ্রামে যাই। কিন্তু আজ সিএনজি-অটোরিক্সা না থাকায় ঘর থেকে একটু তাড়াতাড়ি বের হয়েও ট্রেন মিস করলাম। এখন বাসে করে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। তাতে আজ চাকুরীতে গিয়েও কোন লাভ হবেনা। তিনিও একটা প্রশ্ন করলেন, সিএনজি বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষ, আমাদের কি হবে?

এদিকে সীতাকুন্ড থানার বেশিরভাগ মানুষ সীতাকুন্ড মুখী হওয়ায় সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ করাতে বাজারে কাঁচা বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতেও পারছেনা। এতে করে সাধারণ মানুষও চরম দূর্ভোগে পড়েছে। যারা সীতাকুন্ড বাজারে বিকল্প ব্যবস্থা দিয়ে কোন ভাবে আসলেও যেতে পারছেনা। আবার অনেকে বিভিন্ন কাজে কর্মে বাজারে আসার জন্য চাইলেও আসতে পারছেনা।

সিএনজি চালক মুখলেছুর রহমান ক্ষোভের সাথে বলেন, ভাই আমি কিস্তিতে টাকা নিয়ে গাড়ি নিয়েছিলাম। প্রতি সপ্তাহে আড়াইহাজার টাকা কিস্তি। আমাদের যদি গাড়ি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এ টাকা কে দিবে। কিস্তির টাকা কি সরকার দিবে। আমাদের বউ-বাচ্চারে কেউ খাওয়াবে?

অন্য সিএনজি চালক করিম উদ্দিন বলেন, সিএনজি যদি মহাসড়কে না চলে তাহলে কোথায় চলবে? শুধুমাত্র গ্রামে সিএনজি চালিয়ে তো মালিকদের ইনকামও দিতে পারব না, নিজের বেতন তো দূরের কথা। আমরা সীতাকুন্ড সকল সিএনজি চালকরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।

অন্যদিকে ১লা আগষ্ট থেকে সিএনজি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে ঘন্টাব্যাপী মহাসড়কের পৌরসদর এলাকায় বভিন্ন ধরনের পোস্টার,ব্যানার ও প্লে-কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষের অংশগ্রহনে এ মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রেখেছেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লা-আল বাঁকের ভূঁইয়া, সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর মোহাম্মদ,সাধারণ সম্পাদক বাহার,সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম,সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি খায়রুল বশর,সাধারণ সম্পাদক মো.শাহজাহান,সিএনজি মালিক শওকত,শিবু বড়–য়া,নাছির উদ্দিন,মহিউদ্দিনসহ প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,“মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধে সরকারী আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের কারনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সিএনজি মালিক ও চালকরা। সরকার অবিলম্বে এ হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে ঋণের চাপে আত্মহত্যার পথ বেচে নিতে হবে উপজেলা তথা দেশের ঋণগ্রস্থ সিএনজি মালিককে। এছাড়াও বেকার হয়ে পড়বে এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ সিএনজি চালক।ন্ড

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত