টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ খুলে দেওয়ায় আতংকে এলাকাবাসী

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

kaptai-paniচট্টগ্রাম, ০১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে পানি ধেয়ে আসায় কাপ্তাই হৃদে পানির চাপ সামাল দিতে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের সবকটি খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নিন্ম এলাকার পানি কমে গেলেও কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়ার খবরে কাপ্তাইয়ের পাশ্ববর্তী উপজেলা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য এলাকার মানুষের মাঝে প্লাবন আতংক বিরাজ করছে। প্লাবনের আশংকায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিন্মাঞ্চলের মানুষের সরিয়ে নিতে জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে।

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আবদুর রহমান জানান, শনিবার (০১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হৃদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। উজান থেকে থেকে নেমে আসা পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে আরো বেশি পানি ছাড়া হবে বলে জানা গেছে। হৃদে রুলকার্ভ অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মে ৯০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পানি আছে ১০৫ এমএসএল। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ ফুট পানি বেশি রয়েছে। হৃদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট। এ উচ্চতা অতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে বাঁধ রক্ষায় অতিরিক্ত পানি স্পিলওয়ে দিয়ে ছেড়ে দিতে হয়। টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে পানি ধেয়ে আসছে। পানির চাপ কমাতে দিনরাত কেন্দ্রের পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট চালু রেখে সর্বোচ্চ ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে প্রতিদিন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে পানি বের হয়ে গেলেও উজান থেকে আসা পানির চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্পিলওয়ে দিয়ে অতিরিক্ত পানি ছাড়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, স্পিলওয়ের মাধ্যমে পানি ছাড়া হলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াসহ আশপাশের কর্ণফুলী নদীর দুই দিকে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

পৌরসভার সৈয়দবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কৃষক মো. নুর উদ্দিন জানান, কয়েকদিনের ভারি বর্ষন ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নিন্মাঞ্চলের পানি নেমে গেছে। কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়ার কারনে গুমাই বিলসহ জমির সব ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, কাপ্তাই বাঁধের পানির ছাড়া কারনে নিন্ম এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তাই নিন্ম এলাকার মানুষকে সরে যেতে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের বলা হচ্ছে।

মতামত