টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লামায় পাহাড়ের নীচে চাপা পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৬ , নিখোঁজ ১

এস.এম ইসমাইল হাসান
আলীকদম (বান্দরবান)প্রতিনিধি

Lama-Picture-02চট্টগ্রাম, ০১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: আলীকদমের পার্শ্ববর্তি লামার হাসপাতাল পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের চারজনসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে পাহাড়ের বালি মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই লামা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করে। নিহতরা হল, মোঃ বশির উদ্দিন(৫৫), আমেনা বেগম (৩০), রোজিনা আক্তার (৩২), মোাঃ সাগর বাদশা প্রকাশ পুতু (১৪), সাজ্জাদ হোসেন(৫), মোঃ আরাফাত হোসেন (১৫), ফাতেমা আক্তার(০৮)। নিহতরা সকলে উপজেলা সদরের হাসপাতাল পাড়ার পাহাড় ধসে নিহত মোঃ বশির উদ্দিনের পরিবারের সদস্য। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে পাহাড় ধসে ৫টি বাড়ি মাটি চাপা পড়ে।

 শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মাটির নিচে নিখোঁজ রয়েছেন লেদু মিয়া (৭০)। সেনাবাহিনী, ফাঁয়ার সার্ভিস শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষনা করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালেদ মাহমুদ জানান, মা- ছেলেসহ ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর কোন নিখোজ থাকার সম্ভাবনা দেখছিনা। তবে স্থানীয়রা মাটির নিচে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবী করেন।

এই ঘটনার পর শনিবার দুপুরে বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারমান কৈশহ্লা, জেলা প্রশাসক খন্দকার মিজানুর রহমান লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহমুদ ও লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহতদের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ হাজার, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ আরো জানান, প¬াবিত এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্রে ঝুকিপূর্ণ দুর্গত লোকজন অবস্থান করছে। প্রবল বর্ষণের কারণে উপজেলার লামা পৌরসভা ২নং লামা সদর ইউনিয়ন, ফাইতং, রূপসীপাড়া ও আজিজনগর ফাসিয়াখালীর বহু কাচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। লামা পৌরসভার সহ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। লামা উপজেলা সদরের সাথে লামা-চকরিয়ার সড়ক-উপসড়কগুলোতে স¤পূর্ণ রূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ী ঢলে লামা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স, লামা কোর্ট, লামা থানা, কৃষি অফিস, মৎস অফিস, পশু হাসপাতাল ও স্কুল, মাদরাসাসহ পৌর শহরের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী অফিস দোকান পাট পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

লামা পৌর এলাকার নয়াপাড়া, বাসস্টেন্ড, টিএন্ডটি পাড়া, বাজারপাড়া, লামা বাজার, চেয়ারম্যান পাড়ার একাংশ, রাজবাড়ী, ছোট নুনারবিলপাড়া, বড় নুনারবিলপাড়া, উপজেলা পরিষদের আবাসিক কোয়ার্টার সমূহ, থানা এলাকা, চাম্পাতলী আনসার ব্যাটালিয়ান ক্যাম্প, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজার, রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী এলাকা প¬াবিত হয়। অবিরাম বর্ষনের কারণে ধস দেখা দেয় বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত পাহাড় গুলোতেও।

একই ভাবে ফাঁসিয়াখালী বনপুর, আজিজনগর, ফাইতং, সরই ও গজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ী ঢলে বন্যা ও পাহাড় ধসে পড়ার খবর মোবাইলে কথা বলে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে। এসব এরাকায় অর্ধলক্ষ পরিবার পাহাড় ধসের ভুঁকি নিয়ে পাহাড়ের নীচে ও পাদদেশে বসবাস করছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত