টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোমেনে খাতুনগঞ্জে শত কোটি টাকার ক্ষতি

paniচট্টগ্রাম, ০১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। দোকানপাট, মিল-কারখানা ও গুদাম ঘর পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে কোটি টাকার মালামাল।ফলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আজ শনিবার সকাল থেকে ঠেলাগাড়ি ও ট্রাকে করে দোকান ও গুদাম থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে টানা বর্ষণের সাথে পূর্ণিমার জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে যায় বাণিজ্যপাড়া চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহৎ এই পাইকারি বাজার কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক হাজার দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

আলাপকালে ব্যবসায়ীরা বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ছোট-বড় সাত হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতকোটি টাকার মালামাল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। যা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কিছু সংরক্ষণ আবার কিছু ফেলে দেয়া হচ্ছে।

চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজুল্লাহ বাহাদুর বলেন, আমার দোকানে প্রায় তিন লাখ টাকার মসল্লা নষ্ট হয়ে গেছে। শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়ায় দোকানে ছিলাম না। এতে পানি দ্রুত দোকানে ঢোকে পড়ায় মালামাল সরিয়ে নেয়ার সময় পাইনি।

এ ব্যবসায়ী নেতা দাবি করেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে এমন দোকান-গুদাম নেই, যেখানে পানি ঢুকেনি। কয়েক হাজার দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে অন্তত শত কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ জানান, খাতুনগঞ্জে চার সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জলোচ্ছ্বাসে খাতুনগঞ্জের প্রায় দোকান, মিল কারখানা ও গুদাম পানিতে ডুবে যায়। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় মালামাল সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।

এছাড়াও বন্ধের দিন থাকায় দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল, গুদাম বন্ধ ছিল। এতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যায়। আজ শনিবার সকালে ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে দোকানের ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে আমরা সরকারের কাছে চাক্তাই, রাজাখালী খালের মোহনায় স্লুইস গেট নির্মাণ ও শাখা খালগুলো গভীরভাবে খননের দাবি করে আসছি। কিন্তু কোনো সরকার আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি।

ছগির আহমদ জানান, ৯১ ও ২০০৭ এর ঘূর্ণিঝড়ের পর এবারের জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক পানি উঠেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে, হরতাল-অবরোধে বার বার মার খেয়ে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অথচ সরকারের কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাসা-বাড়িতে চলে গেছেন। পানি ঢোকার খবর পেয়ে সবাই ছুটে আসছেন। তবে ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের বলে দেয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন সময় লেগে যাবে। এর সাথে গুণতে হবে ব্যাংক ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে সুদ, গুদামে মালামাল পচে নষ্ট, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হবে। এর প্রভাব পড়বে বিভিন্ন খুচরা বাজারেও। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বলেন, বিভিন্ন দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে প্রচুর পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীদের অনেক সময় লাগবে।

মতামত