টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোমেনের প্রভাবে বন্যা: রাউজানের ডুবে গেছে শত শত গ্রামের ঘরবাড়ী

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-bonna-3চট্টগ্রাম, ৩১ জুলাই (সিটিজি টাইমস):অভিরাম বৃষ্টিপাত ও ঘুর্ণিজড় কোমেনের প্রভাবে চট্টগ্রামের রাউজানে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ শুত্রবার দুপুরে পানির স্রোতে ভেসে গেছে অনেক মুরগি র্ফাম, মতসখামারী পুুকুর। জানাগেছে বৃহষ্পতিবার রাত থেকে কোমেনের প্রভাবে রাউজানের হালদা ও কর্ণফুলীর পানি ৫ থেকে ৭ ফুট বেড়ে গিয়ে নদী তীবর্তি অসংখ্য বাড়ীঘর ডুবে গেছে। স্রোতে ভেসে গেছে ঘরের মুল্যবান আসবাবপত্রসহ মুল্যবান জিনিসপত্র। এছাড়াও পানির স্রোতে ভেঙ্গে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে অনেক ব্রিজ কালভার্ট ও রাস্তাঘাট। পাহাড়ী ঢল আর জোয়ারের পানিতে বিল-ঝিল, রাস্তা-ঘাট ডুবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

কর্ণফুলী ও হালদা তীরবর্তি হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে ঘরের মধ্যে আটকা পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, মিলছে না হাটবাজার, থমকে আছে ব্যবসা বাণিজ্য।

আজ শুক্রবার হালদা ও কর্ণফুলী তীরবর্তি এলাকা উপজেলার নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, উরকিরচর, পশ্চিম গুজরা এলাকা পরির্দশনে দেখা গেছে স্বাবাবিক জোয়ারের চেয়ে পানির উচ্চতা ৫ থেকে ৭ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া, সামমাহালদার পাড়া, পশ্চিম নোয়াপাড়া, দেওয়ানজিরঘাট, কচুখাইন, দক্ষিণ নোয়াপাড়া, চৌধুরীঘাটকুল, পালোয়ান পাড়া, উভলং, সুর্যসেন পল্লি, বাগোয়ান ইউনিয়নের লাম্বুরহাট, কোয়ে পাড়া, পাচখাইন, কোয়েপাড়া, উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম, সওদাগর পাড়া, উরকিরচর, খলিফারঘোনা, লালমিয়া শাহ পাড়া, আবুরখিল, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা, আজিমেরঘাট, পাহাড়তলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ শত শত গ্রামের হাজার হাজার বাড়ী ঘরে পানি ডুকে পড়ে। এসময় ঘরের লোকজন দ্রুত তাদের আসবাবপত্রসহ মুল্যবান সামগ্রি সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলেও জোয়ারের তীব্রতায় অনেক কিছু ভেসে গেছে। উরকিরচর ইউনিয়নের বিদ্যুত নেই গত ২দিন থেকে। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। ফ্রীজে রাখা সামগ্রি নষ্ঠ হচ্ছে।

মোকামীপাড়া গ্রামের এস.এম. সোলেমান বাদশা জানিয়েছেন, হালদার পাড় ঘেষে বসবাসকারী এ এলাকার প্রতিটি ঘরেই পানি ঢুকে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির স্রোতে এখান্কার সিএনজি চালক আব্দুস সালাম, মো. এজহার মিয়া, নরুল আবসার, মো, হাশেম, জানে আলমসহ অনেক ঘর বাড়ী পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেছে, ইয়াকুব সওদাগরের মুরগি খামারের পাচশতাধিক মুরগি ও নুরুল ইসলাম সওদাগরের দোকানে পানি ডুকে চাউলসহ বেশ পন্য সামুগ্রি ভেসে গেছে। এছাড়াও লহালদার পানির তীব্র স্রোতে মোকামী পাড়া সড়কটি ভেঙ্গে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এলাকার নদী ভাঙ্গণও তীব্র আকার ধারন করেছে। তীরবর্তি অসহায় মানুষগুলো চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

সামমাহালদার পাড়া গ্রামের হোসেন প্লোট্রি ফার্মের মালিক তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আমি র্দীঘ ১০ বছর ধরে মুরগি ফার্মের ব্যবসা করছি। গ্রামের পার্শ্বে একটি ঘর তৈরী করে ওখানে মুরগি ফার্ম পরিচালনা করি। কিন্তু গতকাল শুক্রবার বন্যার স্রোতে আমার ফার্মের প্রায় দুই হাজার মুরগি, ১ লাখ টাকার মুরগির খাদ্য ভেসে গেছে। আমি এখন নিস্ব হয়েগেছি। অনেক কষ্টে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নেমে ছিলাম।

নোয়াপড়া ইউপি সদস্য সুশিল দাশ বলেন, আমার এলাকা উভলং ও সুর্যসেন পল্লিতে কর্ণফুলী তীরবর্তি বসবাসকারী অনেক বাড়ী ঘরে আজ (শুক্রবার দুপুরে) পানি ডুকে কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়। এসময় ছোট বচ্চাদের অন্যত্র সরিয়ে নিলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের খাটের উপর বসে দিন কাটায়। তিনি আরো জানান, তার এলাকার অসংখ্য মতস পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

কচুখাইন এলাকার আবুল কালাম আবু বলেন, পুরো এলাকা পনিতে থৈ থৈ করছে। এলাকার গণিমিয়ার হাটের মুসার মুরগি ফার্ম থেকে ১ হাজার মুরগি, পুর্ব কচুখাইনে খোকনের মুরাগি খামারের দুই হাজার মুরগি, শফি সওদাগরের মুরগি খামের ৫ শতাধিক মুরগি পানিতে ভেসে যায়। এতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে তারা।

উরকিরচর জনতা সংঘের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন ইমন বলেন, এবারের বন্যা ৯১ সালের মতই হয়েছে। এতঘরবাড়ী পানিতে ডুবেছে যে ৯১ সনের সেই ঘুর্ণিজড়ের মতই বন্যার পানি ছিল আজকে। তিনি জানান, উরকিরচর এলাকার হালদা তীরবর্তি শত শত বসতঘরে বন্যার পানি ডুকে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম বলেন, বন্যায় নোয়াপাড়ার বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ী, বিভিন্ন খামার ক্ষতি হওয়ার খবর পেয়েছি। পরির্দশনে গিয়ে সহযোগী দেয়া হবে ইউপি পরিষদ থেকে।

মতামত