টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিকেলের মধ্যে চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে ‘কোমেন’

komenচট্টগ্রাম, ৩০ জুলাই (সিটিজি টাইমস):   মৌসুমি লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর এটি এখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ এ রূপ নিয়েছে। ক্রমশই তা ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে। এটি বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এজন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, জেলা ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এছাড়া মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

দ্য রিপোর্টের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করা হয়েছে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও কাজ করছেন।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা দ্য রিপোর্টকে জানান, স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ সামান্য উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে গত মধ্যরাতের পরে ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে ক্রমান্বয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর/বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে

৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলা ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ, চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এ জেলাগুলোতেই ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করে আবহাওয়া বিভাগ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার ও সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।

নিম্নচাপের প্রভাব গত কয়েকদিন ধরেই সারাদেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভারি বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাহাড় ধসের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

মতামত