টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ধেয়ে আসছে ঘুর্ণিঝড় কোমেন, বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক বাতিল

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘুর্ণিঝড় কোমেন। কোমেনের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আজ ভোর রাত থেকে ধমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে বেশ কিছু গাছ পালা ও বসত বাড়ী উপড়ে পড়েছে বলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সেন্টমার্টিনে ৩ টি নৌকা নোঙ্গর রত অবস্থায় ডুবে গেছে। তবে কোন প্রানহানীর খবর পাওয়া যায়নি। আজ দিনের জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৩ ফুট পানি বেশি হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। কক্সবাজারে এখনো বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানি বন্ধী ২ লাখ মানুষ।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেছেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর এটি এখন শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘কোমেন’। ঘূর্ণিঝড়টি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম, রবিশাল, কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এটি এ মুহুর্তে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার ও চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে।’ এটি ক্রমশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এদিকে রাত ১১ টার পর থেকে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে মাইকিং । প্রথম দিকে মানূষ আশ্রয় কেন্দ্রে না আসলে ও শেষ রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করে। রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও সচেতনতার সাথে কাজ করছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন,জানিয়েছেন, আজ জেলার সকল স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দর কে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে আজ মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসী প্রত্যাশীদের মধ্যে বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্ত হওয়া ১৫৯ জনকে পতাকা বৈঠকের মধ্যে ফেরত আনার কথা থাকলে ও দুর্যোগ এর কারনে তা বাতিল করা হয়েছে বলে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার এম এম আনিছুর রহমান জানিয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত