টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেন্টমার্টিন লন্ডভন্ড, গাছচাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু

Saint -_1

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গাছ-বাঁশ দ্বার নির্মিত সব ধরণের ঘরবাড়ী বাতাসের সাথে ওড়ে গেছে। ধসে পড়েছে দ্বীপের অধিকাংশ গাছগাছালি। নোঙর ছিঁড়ে হারিয়ে গেছে সাগরতীরে অবস্থানরত নৌকা-ট্রলারসমূহ।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে প্রবল ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। সকাল সাতটায় পাওয়া সংবাদ পর্যন্ত থেমে থেমে বাতাস বইছে। সাথে বৃষ্টিপাতও হচ্ছে। মানুষ ঘরবাড়ী থেকে বরে হতে পারছেনা।

দ্বীপের পশ্চিমপাড়ায় গাছচাপায় মো. ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে গাছের নীচ থেকে উদ্ধার করেছে।

সেন্টমার্টিন থেকে সংবাদকর্মী আব্দুল মালেক মুঠোফোনে সিবিএনকে জানান, ২০০ বছরের ইতিহাসে দ্বীপের এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে একজন মারা গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। বাতাসের গতিবেগ এতই প্রবল যে, দাঁড়িয়ে থাকাও অস্বাভাবিক।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাগরে জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নীচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে দ্বীপবাসি।

প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানান, দ্বীপের ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ী ও গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘর থেকে বাইর হওয়ারও সুযোগ নেই। জীনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুকিতে রয়েছে দ্বীপবাসী। প্রচুর পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এর পরিমাণ নির্ণয় করা যাবেনা।

স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হারুনর রশিদ জানান, আমরা বের হওয়ার সাহসও পাচ্ছিনা। আপাতত কিছুই করা যাচ্ছেনা। বাতাস থামলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লোকজনকে নিরাপদে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ দিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৫ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের কারনে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে ১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে নিম্নচাপটি অবস্থান করছিল। এটি ঘন্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে কক্সবাজারের দিকে এগিয়ে আসছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা এ,কে,এম নাজমুল হক জানান, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে বলা হয়েছে।

এ দিকে টানা বর্ষণ ও সাগরের জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল গত এক সপ্তাহ ধরে পানির নীচে। কমেনি বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ। উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ী ঢল।

জেলায় শতাধিক গ্রামের ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় জন দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পূর্নিমার তিথীর কারনে জোয়ারের পানিতে জেলার উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর বা বিকেল নাগাদ বরিশাল ও চট্টগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বুলেটিনে আরো বলা হয়, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

মতামত