টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে সুন্দরী শারমীনের ক্যামেরা ফাঁদে অন্তত ১০০ ব্যবসায়ী

ctgচট্টগ্রাম, ২৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস): কোন ধরনের লুকোচুরি নয়। পরিচয় হওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুরুষ সঙ্গীকে নিয়ে যেতো সহযোগী শেলীর বাসায়। সেখানে পুরুষ সঙ্গীকে বিছানায় নিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতো। তা দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতো মাসের পর মাস। আর তার এ কাজে জড়িত ছিল ৭ জনের বিশাল একটি সিন্ডিকেট। যাদের বেশির ভাগই এ ধরনের অপকর্মে জড়িত।

চট্টগ্রামসহ সারা দেশের অন্তত ১০০ ব্যবসায়ী, ছাত্র ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এ চক্রের হাতে প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র  জানিয়েছে।

গতকাল ডিবি কার্যালয়ে গ্রেপ্তার সদস্যদের আনা হলে সেখানে ফাঁস হয় চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি শাহাবুদ্দিন, তার স্ত্রী শেলী ও শারমিন একটি প্রতারক চক্রের প্রধান ৩ সদস্য। শারমিন ও শেলী ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মোবাইলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে তাদের বাসায় নিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। অনেকে মানসম্মানের ভয়ে তাদের হাতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মুক্ত হন।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টেরিবাজারের এক ব্যবসায়ীকে পাহাড়তলী থানা এলাকায় নিয়ে আটক করে ১০,০০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা ৩ জন। বিষয়টি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের জানানো হলে টাকা দেয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রের ২ জনকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শাহাবুদ্দিন, শারমিন ও শেলী তখন পালিয়ে যায়।

তবে এই তিন সদস্য চট্টগ্রামে ধরা পড়ে আঁখি আক্তার (১৮) নামের এক যুবতীকে দিয়ে জোর করে রাত্রিযাপন করাতে গিয়ে। ওই মেয়েকে কৌশলে জোর করে চলতি বছরের গত ২৫শে জুন ইপিজেড মোড় থেকে পূর্ব-পরিচিত সিএনজিচালক সাগর বাসায় নামিয়ে দেয়ার কথা বলে শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী শেলী আক্তারের কাছে তুলে দেয়। এই সময় তাদের সহযোগী সেলিম, ওসমান ও মিনহাজ উদ্দিন আঁখিকে এক ব্যক্তির সঙ্গে রাত কাটানোর প্রস্তাব দেয়। অন্যথায় ভিডিও করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।

খবর পেয়ে গত ২৭শে জুলাই বিকালে পাঁচলাইশ থানাধীন বেবী সুপার মার্কেট সংলগ্ন আদর্শপাড়া সালাম ভিলার ২য় তলায় অভিযান চালায় পুলিশ সদস্যরা। সেখান থেকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায় ১৪ জনকে। এই ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল ডিবি কার্যালয়ে শাহাবুদ্দিন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের টার্গেট করি। এই পর্যন্ত ২০/৩০ জন ব্যক্তিকে এই ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। তবে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে ১০০ এর বেশি। বেশির ভাগ মানুষ গোপন ভিডিও ক্যামেরা ফাঁস হওয়ার ভয়ে টাকা দিয়ে দিতো।

প্রতারক এই সদস্য আরও বলেন, জামা-কাপড় খুলে জোর করে এই কাজে বাধ্য করানো হতো লোকজনকে। তবে ৫০,০০০ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতাম আমরা। অনেক সময় ভিডিও ক্যামেরার ক্যাসেট ফেরত দেয়ার কথা বললেও কপি করে তা রেখে দিতাম। এই কাজে শারমিন খুব এক্সপার্ট।

জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রাজেশ বড়ুয়া বলেন, সুন্দরী আঁখি এই কাজের মূল হোতা। তবে শাহাবুদ্দিনও অপকর্মে জড়িত। এরা সবাই খাতুনগঞ্জের কোটিপতি ব্যবসায়ীকে বাসায় নিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করতো। টাকা না দিলে তাদের বাসায় নগ্ন ছবি পাঠিয়ে দিতো কুরিয়ারে। এই চক্রের আরও ৩ নারীকে আমরা খুঁজছি।-মানবজমিন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত