টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সা. কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড বহাল

saka-bnpচট্টগ্রাম, ২৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস):   মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

বুধবার সকাল নয়টা ৭ মিনিটের দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রায় ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে আদালতে আগতদের তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। একই সঙ্গে এই রায় ঘিরে সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ৭ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য ২৯ জুলাই ধার্য করে আদেশ দেয় আদালত।

আদালতে সাকা চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

৫ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত তিন কার্যদিবসে সাকা চৌধুরীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান।

এর আগে প্রথমে আসামিপক্ষে গত ১৬ জুন শুনানি শুরু করে ৮ কার্যদিবস ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-জেরা এবং রায় সংক্রান্ত অন্যান্য নথিপত্র (পেপারবুক) উপস্থাপন করেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। এরপর গত ৩০ জুন এবং ১ ও ৭ জুলাই তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগে পঞ্চম আপিল মামলা। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর এ আপিল দায়ের করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ আপিল করেনি।

আলোচিত এই নেতা আপিলে খালাস পাবেন বলে আশা করছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল আশা করছেন, সাকা চৌধুরীর সর্বোচ্চ শাস্তিই বহাল রাখবে আপিল বিভাগ।

২০১৩ সালের ১অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাকা চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ৩,৫,৬ ও ৮ নং অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে মৃত্যুদন্ড. ২,৪ ও ৭নং অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ২০ বছর করে জেল এবং ১৭ ও ১৮ নং অভিযোগে তাকে ৫ বছর করে জেল দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল-১।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।

যে চারটি হত্যা-গণহত্যার দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো ৩ নম্বর অভিযোগ-অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংকে হত্যা, ৫-নম্বর অভিযোগ-রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে তিনজনকে গণহত্যা, ৬ নম্বর অভিযোগ-রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় ৫০ জনেরও বেশি লোককে গণহত্যা এবং ৮ নম্বর অভিযোগ- চট্রগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহম্মদ ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে হত্যার অভিযোগে।

২-নম্বর অভিযোগ রাউজানের গহিরা গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গণহত্যা, ৪ নম্বর অভিযোগ জগৎমল্লপাড়ায় ৩২ জনকে গণহত্যা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে রাউজানের সতীশ চন্দ্র পালিতকে হত্যার অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়াও ১৭ নন্বর অভিযোগ- মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, সিরাজ ও ওয়াহেদ ওরফে ঝুনু পাগলাকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং ১৮ নম্বর অভিযোগে চান্দগাঁওয়ের সালেহউদ্দিনকে অপহরণ করে সাকা চৌধুরীর পারিবারিক বাসভবন গুডসহিলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে তাকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সাকা চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে হরতালে গাড়ী পোড়ানো ও ভাংচুরের এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তর দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মতামত