টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এ কেমন শত্রুতা?

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

raozan-pic-bobo-goreaচট্টগ্রাম, ২৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস): বয়স ৩৭-৩৮ বছর। অনেকটা নির্বোধ মানুষটি ভবঘুরে। নাম ঠিকানা বলতে পারলেও তা সঠিক কিনা সন্দেহ রয়েছে। কিন্ত এই অজ্ঞাত মানুষটির মুখমন্ডল আর হাতে এসিড মেরে নির্মমভাবে ঝলসে দিয়েছে কোন এক মানুষরুপি পাষন্ড। এসিড যন্ত্রনায় কাতর হয়ে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে যন্ত্রনা নিবারণের চেষ্ঠা করছিলেন ওই ব্যক্তি। তার যন্ত্রনা দেখে ফিরে যেতে পারলেননা কয়েকজন মানবদরদী মানুষ। আর সেজন্যে যন্ত্রনাকাতর বৃষ্টির কর্দমাক্ত পানিতে পড়ে থাকা অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাউজান পৌরসভার জলিল নগর বাস ষ্ট্যান্ড এলাকার আবছার মার্কেটের সামনে।

ওই এলাকার পল্লী ডাক্তার লিটন কুমার শর্মা ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, পর্সা ও সামান্য লম্বা গড়নের প্যান্ট শার্ট পরিহিত অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটি গত প্রায় একমাস ধরে জলিল নগর বাস ষ্ট্যান্ড এলাকায় ঘোরাফেরা করে আসছিলেন। এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে খাবার ও পান খেতেন তিনি। এখানকার মানুষের কাছে ব্যক্তিটি ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত। কিন্ত গতকাল সকালে কোন এক নির্দয় ব্যক্তি ওই ভবঘুরে মানুষটির মুখে ও হাতে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দিয়েছে। এরপর সে এসিডের যন্ত্রনায় আবছার মার্কেটের সামনে বৃষ্টির কর্দমাক্ত পানিতে পড়ে ছিলেন। লিটন কুমার শর্মা বলেন ‘যন্ত্রকানায় কাতরানো মানুষটিকে আমরা দেখতে পেয়ে আমি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম উদ্ধার করি। এরপর আমি তার এসিডে ক্ষতস্থানে শ্র“সসা করার চেষ্ঠা করি। পরে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ওই ব্যক্তিটিকে হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে রেখে দয়াবান মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্যে ১২-১৫শ টাকা তোলেন।

এরপর রাউজান প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক পূর্বকোণের জাহেদুল আলমকে সংবাদ দিলে তিনিসহ ডা. লিটন কুমার শর্মা ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম মিলে এসিড দগ্ধ মানুষটিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যান। ওই ব্যক্তিটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর কর্তব্যরত চিকিৎক ডা. মনোজ কুমার চৌধুরী বলেন এসিড দগ্ধ ব্যক্তিটির অবস্থা ভালো নয়। তার মুখ, মাথা ও হাতের একটি অংশ ঝলসে গেছে। তাছাড়া তার ডান পায়ের একাংশে পচন ধরেছে। ডা. লিটন কুমার শর্মা ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন ‘এসিড দগ্ধ ব্যক্তিকে গতকাল ছাড়াও শুক্রবারও এসিড মারা হয়।

তার কাছ থেকে নাম ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি শুধু বলেন ‘তার নাম সোলায়মান, বাবার নাম নুরু সওদাগর, বাড়ি নতুন হাট, নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন।’ এদিকে এ প্রতিনিধি ওই নামে কোন ব্যক্তি বা তার স্বজন নতুন হাট এলাকায় আছে কিনা জানার জন্যে চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার, সমাজকর্মি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী ও তাজ উদ্দিন খান সোলায়মানের কাছে তথ্য জানতে চাইলে তারা ওই ব্যক্তিটির পরিবারের কোন সন্ধান দিতে পারেনি। অপরদিকে এসিড দগ্ধ মানুষটিকে উদ্ধারকারীরা স্বজনদের সন্ধান চেয়েছেন এবং তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত