টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বান্দরবানে শতাধিক পাহাড়ে ধস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

paharচট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস):ভারী বর্ষণে বান্দরবানের ছোট-বড় শতাধিক পাহাড়ে ধস নেমেছে। জেলার দক্ষিণাঞ্চল লামা নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন এলাকায় এসব পাহাড় ধসে গেছে।

এতে প্রাণহানির কোনো ঘটনা না ঘটলেও এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ও মাটি ধসে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে বান্দরবান-রুমা ও থানছি সড়ক। এই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিশাল বিশাল অংশ ধসে পড়েছে।

সড়কের উভয় দিকে যানবাহন আটকা পড়েছে। সড়ক বন্ধ থাকায় দুটি উপজেলায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সচল করতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

থানছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনুয়ার হোসেন বলেন, “জীবননগর, বলিপাড়া, বাগানপাড়া, নীলগিরি ১৬ মাইলসহ বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ও সড়কের বিশাল অংশ ধসে গেছে। লোকজন পায়ে হেঁটে চলাচল করছে।”

এদিকে জেলার লামা উপজেলার আজিজ নগর, ফাইতং, ফাসিয়াখালী এলাকায় শতাধিক ছোট-বড় পাহাড়ে ধস নেমেছে। এসব পাহাড়ে বনাঞ্চল কেটে অপরিকল্পিভাবে রাবার চারা ও অন্যান্য গাছের চারা লাগানো হয়েছিল।

পাহাড় কাটায় ও বৃক্ষ নিধনের ফলে পাহাড়গুলোতে ধস নামে। এসব এলাকায় জনবসতি কম থাকায় প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আজিজ নগর এলাকা থেকে বেশ কিছু পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জেলার দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়গুলোর মাটি খুবই নরম প্রকৃতির। তার ওপর এসব পাহাড় থেকে ব্যাপকভাবে মাটি কেটে ও বৃক্ষ নিধন করে নষ্ট করা হচ্ছে। ফলে প্রবল বৃষ্টির সময় পাহাড়ের ফাটল দিয়ে পানি ধুকে পড়ে ধস নামছে।

মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, “অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলন ও চাষাবাদ বন্ধ করা না গেলে পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। ভারী বর্ষণের সময় ব্যাপক পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজিজ নগর, সরই, ফাইতং, গজালিয়া, বাইশারী, সোনাইছড়ি, ঘুনধুম এলাকায় এবার ভারী বর্ষণের সময় অনেক ছোট-বড় পাহাড় ধসে গেছে। ধসে পড়া পাহাড়ের মাটিতে ফসলি জমি ও ঝিরি ঝর্ণা ভরাট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি।

এদিকে ভারীবর্ষণ কমে আসায় নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি কিছুটা নেমেছে। তবে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগযোগ এখনো বন্ধ।

রুমা, থানছি, লামা আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও সড়ক যোগযোগ স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এসব এলাকায়।

প্রশাসনের পক্ষ হতে বান্দরবানে ২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানিয়েছেন, “বন্যার্তদের জন্য ইতিমধ্যে ১৫ মে: টন খাদ্যশষ্য ও নগদ ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সেনাবাহিনী ও বিজিবির পক্ষ হতে শুকনো খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।”

মতামত