টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সুবিধাবাদীদের আগাছার মত উপড়ে ফেলতে হবেঃ সিটিজি টাইমস ডট কমকে একান্ত সাক্ষাতকারে কামরুল ইসলাম চৌধুরী

kamrul-pic1চট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  একসময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা বর্তমান আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত। দুঃসময়ে আওয়ামী রাজনীতির মাঠের সরব থেকে দলকে রেখেছেন সুসংগঠিত। জীবনের বহু ঘাত প্রতিঘাত সয়ে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সবসময়ে লড়েই চলেছেন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি অংশ নিবেন। সিটিজি টাইমস ডটকমকে তিনি সাক্ষাতকার দিয়েছেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাব

প্রতিবেদক : রাজনীতিতে হাতেখড়ি কখন কিভাবে ?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ওয়াকিল আহমদ তালুকদারের নির্বাচন থেকেই বলতে গেলে রাজনীতির কর্মকান্ডের সাথে সম্পর্কিত হই। রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যয়ন কালে ১ম বর্ষ থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ১৯৮১ সনে থানা ছাত্রলীগের সম্মেলনে মরিয়মনগরের বন্ধু জাফরকে আহবায়ক ও আমাকে যুগ্ন আহাবায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সে সময় দিতে না পারায় আমাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব অর্পন করা হয়। ১৯৮৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পায়। তখন সাধারণ সম্পাদক করা হয় বর্তমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহকে। এছাড়াও ১৯৮৮ সালে যুবলীগের আহবায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি।

প্রতিবেদক : আওয়ামীলীগে কখন কিভাবে?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : জন্মসুত্রে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হওয়ায় মুজিব আদর্শের দীক্ষা ছোট বেলা থেকেই। ১৯৯২-৯৩ সনে থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে চাচা খলিলুর রহমান চৌধুরী ২য় বারের মতো সভাপতির প্রার্থী হলে উনার পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাই। সম্মেলন পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগের কমিটিতে আমাকে না রাখায় বিভিন্ন মহলে প্রচন্ড প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সভানেত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত ব্যাপারটা গড়ালে আমাকে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও নানা নাটকিয়তার পর আমাকে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এভাবেই আমার আওয়ামীলীগে পদার্পন।

প্রতিবেদক : আওয়ামীলীগে বর্তমান কি পদে আছেন?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছি।

প্রতিবেদক : দলীয় ভাবে কোনো নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন কিনা ?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : ২০০২ ও ২০১১ সালে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করি।

প্রতিবেদক: আগামী কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা ?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : পৌরবাসী যদি আমাকে চায় তাহলে আগামী রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেব।

প্রতিবেদক : আপনার পরিবারের আর কেউ কি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : আমার পরিবারের সবাই উত্তরাধীকার সুত্রে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার শ্রদ্ধেয় চাচা বর্তমান পৌর মেয়র খলিলুর রহমান চৌধুরী ১৯৮৪সাল থেকে মধ্যবতী কয়েক বার বাদে এখনও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে আছেন। আমার পরিবারের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার নুরু রহমান চৌধুরী, মাষ্টার বদি আহাম্মদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী লেদু, বদিউল খায়ের লিটন চৌধুরী আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়াও আমার সহধর্মিনী জুমাইনা ছাদেক শিলা তৎকালীন থানা ছাত্রলীগ ও রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের মহিলা সম্পাদক ছিলেন।

প্রতিবেদক : রাজনীতির বাইরে আর কি করছেন?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : এলাকার শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। পেশাগত ভাবে আমি একজন ব্যবসায়ী।

প্রতিবেদক : আপনার রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের মধ্যে অন্ত:কোন্দলের কারণ কি?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : এগুলো শোনা কথা। বর্তমান আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন কোন্দল নেই। সবাই রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ড.হাছান মাহামুদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তারপরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি এখন মুখরোচক বচন মাত্র। দলছুট অনুপ্রবেশকারী চাটুকারের কোন অভাব নেই। স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মূল নেতৃত্বে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করাই তো তাদের কাজ।

প্রতিবেদক : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাকর্মীর মধ্যে ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া যায়। এদের ব্যাপারে আপনার দল কি ব্যবস্থা নিচ্ছে ?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : কতিপয় ব্যক্তি মানেই তো একটি দল নয় । রাজনীতিতে প্রত্যেক দলেই কিছু সুবিধাবাদীর উদয় হয়, এদেরকে আগাছার মত উপড়ে ফেলতে হবে। প্রশাসনের কতিপয় উর্ধ্বতন নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে তারা একাজ করার সাহস পায়। যারা মুজিব আদর্শে দীক্ষিত হয়ে আওয়ামী রাজনীতিকে লালনপালন করেন তারা এসব কাজ করতে পারে না। চাটুকার, দুর্নীতিবাজ ও অসৎ লোকদের দলে স্থান নেই।

প্রতিবেদক : সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী ড.হাছান মাহামুদ ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। আর কি কি কাজ অসামপ্ত রয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ ড.হাছান মাহামুদ নির্বাচিত হওয়ার পর পঞ্চাশ বছরের পিছিয়ে থাকা রাঙ্গুনিয়াকে এগিয়ে এনেছেন। এমন কোন পাড়া-মহল্লা নেই যেখানে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আরো শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। তাই বর্তমানে উচিৎ হবে চাটুকার ও সুবিধাবাদিদের হাত থেকে দল এবং রাঙ্গুনিয়াবাসীকে বের করে এনে আইন শৃলার উন্নয়ন ঘটানো।

প্রতিবেদক : আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী : আপনাদের ও রাঙ্গুনিয়াবাসীকে ধন্যবাদ। পাশাপাশি সুযোগ সন্ধানীদের হাত থেকে সতর্ক থেকে রাঙ্গুনিয়াকে সুখি সমৃদ্ধির জনপদে পরিণত করার আহবান জানাই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত