টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন্যায় ভাসছে সাতকানিয়া, পানিবন্দি ৩ লক্ষাধিক মানুষ

paniচট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  চার দিনের এক টানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সাতকানিয়ায় সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার সর্বত্র এখন পানিতে সয়লাব। বুক থেকে গলা সমান পানিতে ভাসছে সড়ক, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাসমূহ। খাল-বিল, জনপদ ও ঘর-বাড়ি ডুবে গেছে পানিতে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নষ্ট হয়ে গেছে বিলের ফসল। খাদ্য সঙ্কটসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় আজ বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্রায় পুরো সাতকানিয়া এখন বন্যার পানিতে ভাসছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষ। শঙ্খ ও ডলু নদীর পানি কূল উপড়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত দুই দিনে শঙ্খ ও ডলুনদীর ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক বসত ঘর।

কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক, কেরানীহাট-গুনাগরি সড়ক সহ উপজেলার প্রায় বেশির ভাগ সড়ক এখন বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

sa3সাতকানিয়া উপজেলা, থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কম্পাউন্ডে পানি প্রবেশ করেছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে কোমর পানি। অনেকে বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার পরিজনদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। টানা চার দিন বৃষ্টি থাকায় অনেক ঘরে খাবার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

আবার কিছু এলাকায় ঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না করা যাচ্ছে না। ফলে ঘরে ঘরে খাবার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসত ঘর, মৎস্য খামার ও মৌসুমী শাক সবজি খেত।

সরেজমিন পরিদর্শন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত চার দিনের অবিরাম বর্ষণ, শঙ্খ, ডলু নদী ও হাঙর খাল দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে প্রায় পুরো সাতকানিয়া এখন বন্যার পানিতে ভাসছে।

বিশেষ করে উপজেলার কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, নলুয়া, খাগরিয়া, আমিলাইষ, ঢেমশা, পশ্চিম ঢেমশা, সোনাকানিয়া, ছদাহা, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন ও সাতকানিয়া পৌর এলাকা বন্যার পানিতে ভাসছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক, কেরানী হাট-গুনাগরি সড়ক এবং উপজেলার বেশির ভাগ অভ্যন্তরীন সড়ক এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কেরানী হাট-বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়া অংশের বাজালিয়ার বড়দুয়ারা, কেঁওচিয়ার দস্তিদার হাট সহ একাধিক স্থানে কয়েক ফুট পানির নিচে রয়েছে। ফলে এসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকার বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

এছাড়াও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক বসত ঘরে। এখানকার মৌসুমী ফসল, মৎস্য খামার, আউষ খেত, আমন বীজতলা এখন পানির নিচে। শঙ্খ ও ডলু নদীর তীরবর্তী প্রায় বেশির ভাগ ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে, সাতকানিয়া উপজেলা কম্পাউন্ড, সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বাস ভবন, থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তার বাস ভবনে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

paniআমিলাইষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুরো আমিলাইষ এখন বন্যার পানির নিচে। পুরো ইউনিয়নের মধ্যে এক থেকে দেড়শ পরিবার ছাড়া প্রত্যেকটি ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদার জানান, বান্দরবান সড়কের বড়দুয়ারা এলাকায় প্রায় ৪ ফুট উঁচু হয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভূঁঞা জানান, সন্ধ্যার পরপর আমার বাসায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ওসির বাসায় পানি প্রবেশের পথে। এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন আহমদ জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরে কোমরসম পানি। ফলে তড়িঘড়ি করে রোগী ও অন্যান্য জিনিসপত্র উপরের তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ জানান, পুরো উপজেলা কমপাউন্ডে পানি প্রবেশ করেছে। অফিসে পানি প্রবেশের পথে। আমার বাসায় দুই থেকে আড়াই ফুট পানি। এছাড়াও পুরো সাতকানিয়ার অধিকাংশ এলাকা এখন বন্যা কবলিত। এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পুরো রাত পানি বাড়লে উপজেলায় বেশির ভাগ অফিসে পানি ঢুকে পড়বে। পাশাপাশি পুরো সাতকানিয়ার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত