টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন্যার পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম

paniচট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই (সিটিজি টাইমস): : চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলার সর্বত্র এখন বন্যার পানিতে সয়লাব। বুক থেকে গলা সমান পানিতে ভাসছে শহরের সড়ক, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাসমূহ। খাল-বিল, জনপদ ও ঘর-বাড়ি ডুবে গেছে পানিতে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নষ্ট হয়ে গেছে বিলের ফসল। খাদ্য সঙ্কটসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।

চট্টগ্রাম শহর ও উপজেলার কয়েকটি স্থানে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। বাঁশখালি ও হাটহাজারী উপজেলায় পানির তোড়ে ভেঙে গেছে বন্যা প্রতিরোধক বাঁধ।

গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় শুরু হয় ভারী বর্ষণ। বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদনদীর পানি বেড়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাসমূহ ক্রমেই প্লাবিত হতে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে রবিবার রাত ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল সড়ক, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাসমূহ পানির নীচে তলিয়ে আছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় শতভাগ এলাকা বুক থেকে গলা সমান পানির নীচে তলিয়ে আছে। এর ফলে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র কিছু রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে তারা। তারপরেও গলা সমান পানিতে রিকশা চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর ৪১ নং ওয়ার্ডের সবকটি আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়ে বুক সমান পানিতে ডুবে আছে। এর ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। গরিব ও দুঃস্থ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই বস্তি এলাকাগুলো সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। বস্তি এলাকার অনেক মানুষ বিছানাপত্র ছেড়ে ঘরের চালে আশ্রয় নিয়েছে।

বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেট, আগ্রাবাদ আক্তারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর মার্কেট, টেরিবাজার, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, খাতুনগঞ্জ, চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের মত অভিজাত বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ এমন কোনো হাটবাজার নেই যেখানে বুক থেকে গলা পানিতে সয়লাব হয়নি।

একইভাবে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, মিরসরাই, সিতাকুন্ড, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাশঁখালি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ সবকটি উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার নদী ও খালগুলো উজানের পাহাড়ি ঢলে একাকার হয়ে গেছে।

বিশেষ করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শস্য ভান্ডার গুমাইবিলের উঠতি ফসল পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। রাত সাড়ে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি না থামায় পানির উচ্চতা ক্রমেই বেড়ে ভয়াবহ বন্যায় রুপ নিচ্ছে বলে উপজেলায় কর্তব্যরত একাধিক নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই জলাবদ্ধতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নালা ও খাল খননের কাজ করেছি। এর ফলে বুধবার থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও শুক্রবারের আগ পর্যন্ত নগরীতে তেমন জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি।

তবে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় শনিবার থেকে পানি বাড়তে থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে সাগরে প্রবল জোয়ার থাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগরের পানি উত্তাল থাকায় পানি নিচে নামতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শুধু নগরীতে নয়, উপজেলাসমূহেও বন্যা দেখা দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। পরিকল্পিত উপায়ে এ কাজ শেষ করতে সময় লাগবে। আশা করছি দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সে কাজ আগামী বর্ষার আগেই শেষ করতে পারব। কাজের সুফল আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরীর মানুষ পাবে এটা আমি হলফ করে বলতে পারি।

মেয়ার নাছির আরও বলেন, নগরীতে পাহাড়ের পাদদেশ দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপনের কারণে পাহাড় ধসে মৃত্যুর যেসব ঘটনা ঘটছে তা আমার হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে। পাহাড় ধস রোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত