টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে বন্যায় দুর্ভোগ চরমে: একজনের মৃত্যু

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Floodচট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই (সিটিজি টাইমস): মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিনের বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে গেছেন। নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে বীজতলা ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে, চিংড়ি ঘের, বসতঘর তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। বন্যার পানিতে ডুবে আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বর্ষণে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের কাজ না থাকায় আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে । ঝড়ের কবলে লন্ডভন্ড হয়েছে গেছে বিদ্যুত বিভাগ। (২৬জুলাই) বিকেলে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পুরো মিরসরাই ছিল বিদ্যুতহীন। কবে নাগাদ বিদ্যুত সংযোগ চালু হবে তারও কোনো হদিস মিলছে না। শ্রীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর মিরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম এমাজ উদ্দিন সরকার।

Mirsarai-Flood-pic-2ভারী বর্ষণে চাষীরা ফসল নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে। উপকূলে তিন নং সতর্ক সঙ্কেত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার মিরসরাই পৌরসভা, ওচমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী, ইছাখালী, মিঠানালা, দুর্গাপুর, মঘাদিয়া, মায়ানী, সাহেরখালীতে ব্যাপক হারে বন্যা দেখা দিয়েছে। বেশীর ভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কাচা সড়ক বিধবস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমদে সুমন এবং মিরসরাই পৌরসভার মেয়র এম শাহজাহান বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক ইসমত জামশেদী জানান, ফেনী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতে মিরসরাই অংশের শুক্কুরহাট এলাকায় বাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফেনী নদীর শুক্কুরহাট এলাকায় ওই বাঁধটি দেবে গেছে। ফলে যে কোনো মুহুর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে মিরসরাইয়ের হাজার হাজার পরিবার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ ক্ষতির সাধন পারে।

মিরসরাই পৌরসভার মেয়র এম শাহজাহান বলেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পৌরসভার সহ¯্রাধিক বসতঘর ডুবে গেছে। লোকজন আতংকিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। শনিবার বন্যার পানিতে ডুবে নওয়াপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র আবু তাহের (৪২) মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৯৯৫ সালে থেকে আজোতক গোভানীয়া চরা সংস্কার না করায় প্রতিবছর পাড় ভেঙ্গে মিরসরাই পৌরবাসী বন্যার কবলে পড়ে। গত ৪/৫ দিন টানা বর্ষণে গোভানীয়া, আমবাড়ীয়া, পূর্ব মিরসরাই, চরারকুল, মধ্যম মঘাদিয়া, নয়াপাড়া গ্রামের সহ¯্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাঁদপুর-গোভানীয়া সড়কের স্টেডিয়াম অংশ, মাওলানা আব্দুল লতিফ সিকদার রোড, অনুরাম শাহ হাজী সড়ক, মুকিম ভূঁইয়া, নওয়া পাড়া সড়ক, আমজাদ হোসেন সড়ক ভেঙ্গে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, রবিবার প্রাথমিকভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ১৭শ থেকে ২হাজার পবিরারের তালিকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকে কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। শ্রীঘ্রই জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ সহযোগিতা ত্রাণ সহযোগিতা পাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষনে ৬হাজার ৩শ ১০ হেক্টর আউশ ফসল, আমন ফসলের বীজতলা ৬শ ৫০ হেক্টর এবং ৬৫হেক্টর জমির সবজি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতির পরিমান কমে আসবে। আর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ফসল পঁচে গিয়ে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর মিরসরাই জোনাল অফিসের এজিএম ইলেকট্রন মিত্র বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত হয়ে রবিবার ভোর থেকে মিরসরাই সোর্স লাইন বাড়বকুন্ড বিকল হয়ে আছে। সেখান থেকে মিঠাছরা সাব স্টেশনের ইনকামিং লাইনে ৮টি পয়েন্টে গাছ উপড়ে তার ছিড়ে গেছে। ১১ কেভি লাইনে মিরসরাইয়ের ৪০টি পয়েন্টে এবং বারইয়ারহাটে ৩০টি সহ শতাধিক পয়েন্টে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত গতিতে মেরামত করতে বিদ্যুত বিভাগের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বর্ষনে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছে উপজেলা প্রশাসন। বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফেনী নদীর দেবে যাওয়া মিরসরাই অংশের শুক্কুরহাট এলাকার বাঁধ রক্ষায় এবং বড় ধরণের দুর্ঘটনায় এড়াতে সংশ্লিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মতামত