টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্বীকার: স্বামীকে সরিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন সোনিয়ার

kচট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই (সিটিজি টাইমস): বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গড়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্ক। ৮ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল অন্য এক যুবকের সঙ্গে। পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল ঠিকই কিন্তু প্রেমিককে ভুলতে পারেনি। স্বামীর সংসারে থেকেও যোগাযোগ চলতে থাকে প্রেমিকের সঙ্গে। বিয়ের পর পুরনো প্রেম পরিণত হয় পরকীয়ায়। সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় স্বামীকে সরিয়ে দিয়েছে দুনিয়া থেকে। এবার প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন। অপেক্ষা ছিল পারিবারিকভাবে শোকটা কাটিয়ে ওঠার। পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি তার। পুলিশের হাতে রিমান্ডের আসামি হিসেবে দিন কাটছে তার। ওই তরুণীর নাম তাসমিন খাদিজা সোনিয়া। গত ২৬শে জুন রাজধানীর কলাবাগানে আততায়ীর গুলিতে নিহত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ওবায়দুল হকের স্ত্রী সে। নিহত ওবায়দুল হক চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি’র ভাগ্নে। প্রথম দিকে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের ঘটনা মনে করা হলেও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য। স্ত্রী সোনিয়ার পরিকল্পনায় প্রেমিক রুবেল ও তার তিন সহযোগী মিলে ওবায়দুলকে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সোনিয়া আইন বিভাগে পড়াশোনা করছে। তাই আইনের ফাঁক-ফোকর সবকিছুই তার জানা। এ কারণে রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে সে অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কখনও কখনও অসুস্থতার ভান করেও থাকছে। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোনিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি সে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এজন্য সাদামাটা জিজ্ঞাসাবাদে সে রুবেলের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের কথা স্বীকার করলেও খুনের দায় নিচ্ছে না। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর সে দিনভর কিছু মুখে দেয়নি। তাকে একাধিকবার খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও সে না খেয়ে থাকে। গর্ভবতী হওয়ায় রাতে তার রক্তচাপ কমে যায়। এজন্য তাকে রাতেই হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে রিমান্ডে আনার পর খাবার খেলেও জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করছে না। বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ তার সামনে হাজির করা হলে সে চুপ থাকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঘটনা প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ কিলিং মিশনে অংশ নেয়া দুই কিলার মিঠু ও তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সোনিয়ার প্রেমিক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে টেলিকমিউনিকেশনে পড়া সাইফুল্লাহ ওরফে রুবেল ও তার আরেক ভাগ্নে পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি গোয়েন্দারা। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছে।

গত ১১ ও ১৫ই জুলাই গ্রেপ্তার হওয়া মিঠু ও তানভীরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, সোনিয়াকে মামা রুবেলের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই তারা ওবায়দুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনা আঁটে সোনিয়া ও রুবেল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য পিস্তল কেনার জন্য ৬০ হাজার টাকাও দেন সোনিয়া। তারা মামা রুবেলের হয়ে কিলিং মিশনে অংশ নেয় তারা। এরপর মামা রুবেলের পরামর্শেই তারা মোবাইল সিম ফেলে দিয়ে নতুন সিম নেয় এবং আত্মগোপনে থাকে।

তদন্ত সূত্র জানায়, স্বামী হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি জানার পরেও ঘটনার পরে সোনিয়া সূক্ষ্ম অভিনয় করে। লাশ ধরে অচেতন হয়ে যাওয়া, কান্নাকাটি করে পরিবারের সদস্যদের মন ভুলিয়ে রাখে। এছাড়া ওবায়দুলকে দাফনের পর চার দিন স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করে। কিন্তু ৪ দিন পর বাবার বাসায় আসার পর আর শ্বশুর বাড়িতে যায়নি সে। তবে মিঠু ও তানভীর গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অস্থির হয়ে পড়ে। সেও যে কোনও সময় গ্রেপ্তার হতে পারে এই আশঙ্কায় জ্বরের কথা বলে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। এমনকি গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা যখন তাকে গ্রেপ্তারের জন্য হাসপাতালে যায় তখন পালানোর চেষ্টাও করে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) হাসান আরাফাত জানান, সোনিয়াকে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে তাকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে এনেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ২৬শে জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্মস্থল বসুন্ধরা সিটি থেকে রিকশায় ভুতের গলির বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারা যান ওবায়দুল। সন্ত্রাসীরা তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার পরও কপাল বরাবর এক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে রিকশাচালক তাকে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মতামত