টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদের এক সপ্তাহ পরও মিরসরাইয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ২৪ জুলাই (সিটিজি টাইমস): ঈদ শেষ হয়েছে প্রায় সপ্তাহ আগে। বিন্তু এখনো ঈদ ‘বখশিশের’ নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতি যাত্রীরা যানবাহন মালিক-শ্রমিকদের হাতে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসছে যানবাহন শ্রমিকদের নির্যাতন।

অপরদিকে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় অনেকে অটোরিকশা এমনকি ট্রাক-পিকআপ, সিএনজিযোগে কর্মস্থলের পথে যাত্রা করতে দেখা গেছে।

ঈদের পর থেকে টানা কয়েকদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্টেশন সরেজমিন পরির্দশন করে বারইয়ারহাট, মিঠাছড়া, মিরসরাই সদর, বড়তাকিয়া, নিজামপুর কলেজ, বড়দারেগাহাট, সীতাকুন্ড সদর এলাকায় দেখা যায়, প্রতি স্টেশনেই শত শত যাত্রী যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কোন গাড়ি এলেই কার আগে উঠবেন এমন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন যাত্রীরা। আর এ সুযোগকেই মূলত কাজে লাগিয়ে নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে গাড়ির চালক-হেলপাররা।

চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশে বারইয়ারহাটে অবস্থান করা করেরহাটের বসিন্দা শহীদ উদ্দিন, বারইয়ারহাটের মুকসুদুল আলম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “সকাল ১০টা থেকে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু ফেনীর দিক থেকে কোনো গাড়িই খালি আসছে না। তাই অনেকক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছি।” শুধু শহীদ কিংবা মুকসুদ নয়, এ ধরনের শত শত যাত্রীর খোঁজ মিলবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্টেশনে। এছাড়া অতিরিক্ত তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে সিএনজি চালকরা। মিরসরাই সদর থেকে মুহুরী প্রজেক্ট এলাকা ভাড়া আসা-যাওয়া বড়জোর ৩শ’ টাকা। কিন্তু তারা নিচ্ছেন ৮শ’ থেকে একহাজার টাকা পর্যন্ত।

জানতে চাইলে সিএনজি চালক রবিউল হোসেন বলেন, আমরা তো সারা বছর ভাড়া বেশি নিই না। বছরে একবার ঈদে ভাড়া একটু বেশি নিই।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে চয়েস বাসের চালক জসীম উদ্দিনস বলেন, “বছরে একবার ঈদ আসে, এই ঈদে যাত্রী থাকে বেশি। তাই আমরা ঈদ বখশিশ হিসেবে সামান্য টাকা বাড়িয়ে নিয়ে থাকি। এটি দোষের কিছু না। কারণ বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।” যোগাযোগ করা হলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন বলেন, “ঈদে একটু বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে বলে শুনছি। কিন্তু কোনো যাত্রী এখনো আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-বারইয়ারহাট চয়েস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। তাও আবার বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রাম শহরের যাওয়ার সময়। চট্টগ্রাম শহর থেকে বারইয়ারহাট আসার সময় পর্বের ভাড়া ৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে মালিক সমিতিকে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দেয়া লাগে তাই একটু ভাড়া বেশি নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ’

মতামত